![]()
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচিত হয়ে আসছে কৃষি খাত। দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে সহজ ও টেকসই করার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কৃষক কার্ড চালুর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তির একটি হলো কৃষি। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং তাদের উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহজ করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কৃষকদের জন্য ঘোষিত বিভিন্ন সহায়তা ও প্রণোদনা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে—সেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
‘কৃষক কার্ড’ চালুর মূল লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা হবে। এর ফলে তারা সরাসরি সার, বীজ, কীটনাশক এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতে পারবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা সহজে পেয়ে যাবেন। সরকারের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি কৃষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে গিয়ে কাজ করেছেন। সকাল ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান এবং সেখানে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বোঝা যায়, কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সচিবালয়ে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগরীর উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও গুরুত্বসহকারে কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত জানতে চান নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, কোন কাজ চলছে, কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য এবং আধুনিক মহানগরীতে পরিণত করতে দুই সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সব মিলিয়ে সরকার একদিকে যেমন কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাকে আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তরের জন্যও পরিকল্পনা করছে। এই দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর বাস্তবায়নই হবে ভবিষ্যৎ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।