![]()
ইউরোপ নিয়ে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প, নেতাদের ‘দুর্বল’ আখ্যা, দেশগুলোকে বললেন ‘ক্ষয়িষ্ণু’
ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইউরোপীয় নেতাদের ‘দুর্বল’ এবং অনেক দেশকে ‘ক্ষয়িষ্ণু’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মোকাবিলায় ইউরোপ ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, বহু ইউরোপীয় দেশ অকার্যকর অভিবাসন নীতির কারণে ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। তিনি হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের প্রশংসা করলেও জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নীতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপ শুধু কথায় শক্ত, কাজে নয়। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার কাছে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে শান্তি চুক্তির পথে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপ পর্যাপ্ত ভূমিকা না রাখলে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তা কমাতে পারে।
এছাড়া ট্রাম্প জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, কিয়েভ সরকার যুদ্ধের অজুহাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন এড়িয়ে চলছে। তার ভাষায়, ‘গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, কিন্তু একসময় সেটা আর গণতন্ত্র থাকে না।’
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন–বিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপার ইউরোপের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং ইউক্রেনকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্কিন নিরাপত্তা কৌশলের কিছু অংশকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্পষ্ট করেন, ইউরোপের গণতন্ত্র রক্ষায় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
সমালোচনার জবাবে জেলেনস্কি জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে তিনি প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান।