![]()
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে আজ বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুপুর ১২টায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সাক্ষাৎ শেষে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হবে এবং সেখানেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গত সপ্তাহেই ইসি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিল।
প্রথমবার আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতন এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ব্যালট পেপারে থাকছে না—স্বাধীন বাংলাদেশে যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি নিজস্ব প্রতীকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে।
নতুন ভোটিং সুবিধা যুক্ত হচ্ছে
এই নির্বাচনে যোগ হচ্ছে নতুন ভোটাধিকার:
-
প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটাররা আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
-
দেশের ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
-
কারাগারে থাকা কয়েদিরা—তাদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এছাড়া কোনো দল জোট করলেও অন্য দলের প্রতীকে ভোট করার সুযোগ থাকছে না, যা জোট রাজনীতির প্রচলিত কাঠামোতে পরিবর্তন আনবে।
দেশজুড়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন
ইসি জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি শেষ। এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন প্রায় ১৩ কোটি ভোটার। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দেশজুড়ে নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও সমাপ্তির পথে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ, তেমনি রয়েছে অনিশ্চয়তা—কিন্তু আজকের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।