
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে গাজার শান্তি প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রাখার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ইরাক যুদ্ধে তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আরব রাষ্ট্রগুলোর আপত্তির মুখে তাকে পিস কাউন্সিল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে ব্লেয়ারকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়ার কারণে ব্লেয়ারের প্রতি আরব নেতাদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভ পুনরায় প্রকাশ পেল।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ব্লেয়ারকে নীরবে শীর্ষ দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে। তবে তাকে সম্ভবত সাইডলাইনে কোনো ভূমিকা দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, ব্লেয়ারকে তিনি পছন্দ করেন, কিন্তু শান্তি প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দেশের সমর্থন মিলবে কি না—সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ব্লেয়ারকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বা বোর্ডে রাখা হবে না। “আমেরিকানরা তাকে পছন্দ করে, ইসরায়েলিও পছন্দ করে, কিন্তু আরব ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে,” বলেছেন এক সূত্র।
চলতি বছর মিসরে ব্লেয়ারের সম্ভাব্য সফর নিয়ে দেশটিতে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা গিয়েছিল। সাবেক মন্ত্রী কামাল আবু আইতা বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে ব্লেয়ারকে আমরা বিশ্বাস করি না; তিনি উপনিবেশিক উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট। গাজা কেবল তার অধিবাসীরাই শাসন করবে।”
ব্লেয়ার মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্কিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের কারণে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে চিলকট কমিশনের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, ব্লেয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকি অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরেছিলেন।
২০০৭ সালে তিনি ব্রিটিশ রাজনীতি ছাড়েন এবং পরবর্তীতে কোয়ার্টেটের প্রতিনিধি হিসেবে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। ২০১৫ পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন, যদিও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা তাকে ইসরায়েলপন্থী বলে অভিযোগ করেছেন। পরে তার প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জও সমালোচনার মুখোমুখি হয়, কারণ ২০১৮ সালে জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পরও সৌদি সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।