![]()
উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতার সরকারের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামীকাল শুক্রবার লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। তার শারীরিক অবস্থা ভ্রমণের উপযোগী থাকলে সকালেই তাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, “ম্যাডামের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভ্রমণের উপযোগী হলে আগামীকাল সকালে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব কিছু তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।”
চিকিৎসা দলের সঙ্গে বিদেশযাত্রা
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন—
-
একজন উপদেষ্টা
-
পুত্রবধূ
-
সাতজন চিকিৎসক
-
দুইজন বিশেষ নিরাপত্তা সদস্য
-
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজন সহকারী
-
ব্যক্তিগত একান্ত সচিব
-
দুইজন গৃহকর্মী
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে গত রোববার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
তার বয়স প্রায় ৮০ বছর; তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ একাধিক রোগে ভুগছেন।
২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান—তার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও জটিলতা বাড়ে।
চিকিৎসক ডা. জাহিদ জানিয়েছেন, অবস্থার অবনতি হলেও তিনি চিকিৎসা নিতে সক্ষম আছেন।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায়
গত বুধবার যুক্তরাজ্যের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং চীনের চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম এভারকেয়ার হাসপাতালে এসে চিকিৎসায় যুক্ত হন। বিদেশগামী পরিকল্পনার আগে বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চলছে।
‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা ও প্রার্থনার আহ্বান
খালেদা জিয়াকে গত ১ ডিসেম্বর ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (Very Important Person – VIP) ঘোষণা করেছে সরকার।
আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—
আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে তার আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া করা হবে।
পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
মানবিক সংকট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
এই কঠিন সময়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অসুস্থতা ও বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টাও গতকাল হাসপাতলে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।