• হোম > অর্থনীতি > বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির শুল্ক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির শুল্ক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:০৯
  • ১০৪

---

বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কহার কমাতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সচিবালয়ের অফিসকক্ষে গত ১ ডিসেম্বর এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি’র যৌথ বৈঠকে এ বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়—দেশে ছুটি কাটাতে আসা প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত স্মার্টফোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ৬০ দিনের বেশি থাকেন, তাহলে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হবে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড রয়েছে, তারা সম্পূর্ণ ফ্রি-তে তিনটি পর্যন্ত মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। অর্থাৎ নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন ফোন আনলেও কোনো শুল্ক দিতে হবে না। চতুর্থ ফোন থেকে শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

যেসব প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড নেই, তারা মোট দুটি ফোন (নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত একটি) ফ্রি-তে আনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ক্রয়কৃত মোবাইলের বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কারণ বিদেশের বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালানিরা সাধারণ প্রবাসীদের চাপে ফেলে স্বর্ণসহ দামি ফোন শুল্কবিহীনভাবে পাচার করতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটছে। এসব অপচেষ্টা রোধে প্রবাসীদের ক্রয় রসিদ বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বৈধ স্মার্টফোন আমদানির শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে, যাতে বৈধ পথে আনা ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসে। বর্তমানে এই শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ, যা কমানোর জন্য সরকার নতুন কাঠামো প্রণয়নে কাজ করছে। শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশের ১৩–১৪টি মোবাইল কারখানার উৎপাদিত ফোনের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট সমন্বয় করা। আমদানি শুল্ক কমালে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে এনবিআর, বিটিআরসি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে নতুন সমাধান খুঁজছে।

এ ছাড়া মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারো অজান্তে অন্য কেউ ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও জটিলতা এড়াতে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়—বাংলাদেশে ক্লোন ফোন, চুরি বা ছিনতাই করা ফোন এবং রিফারবিশড ডিভাইস আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ১৬ ডিসেম্বরের আগে অবৈধভাবে আমদানি করা যেসব ফোন বাজারে রয়েছে এবং যেগুলোর বৈধ আইএমইআই আছে, সেগুলোর তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিলে কম শুল্কে বৈধতা দেওয়া হবে। তবে ক্লোন, রিফারবিশড বা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তিত ফোন এই সুবিধা পাবে না। একই সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বরের আগে ব্যবহৃত সচল কোনো ফোন বন্ধ করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (National Equipment Identity Register) চালু হচ্ছে। এর পর থেকে বৈধ আইএমইআইবিহীন ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না। এতে দেশের ভেতরে অবৈধ, চোরাচালানকৃত ও ক্লোন মোবাইল ফোন পুরোপুরি বন্ধ হবে। পুরোনো বিদেশি ফোনের ডাম্পিং, কেসিং পরিবর্তন করে ইলেকট্রনিক বর্জ্য দেশে ঢোকানোর মতো অবৈধ চোরাকারবারও দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ যেসব রুট দিয়ে অবৈধ ফোন আনা হয়, সেই ফ্লাইটগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কাস্টমস দ্রুতই অভিযান শুরু করবে। প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৫–এ সিমের ইকেওয়াইসি ও আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন ডেটা সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নতুন ধারা যোগ করে রেজিস্ট্রেশন–সংক্রান্ত ডেটা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7457 ,   Print Date & Time: Friday, 2 October 2026, 08:38:32 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh