• হোম > বিদেশ > ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন?

ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন?

  • সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫২
  • ৩৯

---

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত করছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে এক উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও আগ্রাসী সামরিক অভিযানের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্য বলা হচ্ছে মাদক চোরাচালান দমন; তবে বহু বিশ্লেষক মনে করেন, আসল উদ্দেশ্য নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।

বাড়তি সামরিক উপস্থিতি

ক্যারিবিয়ান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, হাজার হাজার সৈন্য এবং এফ-৩৫ স্টিলথ জেট মোতায়েন করা হয়েছে ওই অঞ্চলে।

ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ‘বন্ধ’ ঘোষণা করার ট্রাম্পের বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য বিমান হামলার পূর্বাভাসই দেয়, যদিও কোনো দেশের আকাশসীমা বন্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তার নেই।

গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মাদকবাহী সন্দেহে বেশ কিছু নৌকায় হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে সরাসরি ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে নিন্দা জানাচ্ছে।

আইনি কাঠামো এড়িয়ে নতুন তকমা

ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে ভেনেজুয়েলার একটি সামরিক গোষ্ঠীকে ‘বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে কংগ্রেসের যুদ্ধ অনুমোদন ছাড়াই ‘সন্ত্রাস দমন অভিযান’ নামে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন উভয়কেই লঙ্ঘন করছে।

ভূ-রাজনীতি ও ট্রাম্পের লক্ষ্য

বিশ্লেষকদের মতে—

  • ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ,

  • লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব ধরে রাখা,

  • চীন ও রাশিয়ার শক্তি হ্রাস করা,

—এসবই ট্রাম্পের কঠোর নীতির প্রধান কারণ।

অনেকেই মনে করেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। মাদুরোকে ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে ট্রাম্প তার সমর্থক মহলে অভিবাসন ও অপরাধ দমনের শক্ত বার্তাও পাঠাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের দ্বৈত সংকেত

যদিও সামরিক চাপ বাড়ছে, তা সত্ত্বেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর ফোনালাপের খবর প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে—সমঝোতার সুযোগ থাকলে তিনি তা নেবেন, না হলে কঠোর পথ বেছে নেবেন।

উপসংহার

পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল ও অস্থির। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে, সেখানে ভেনেজুয়েলাও প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। দুই পক্ষের তীব্র টানাপোড়েনে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল জুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা—এবং চূড়ান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7353 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 01:23:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh