• হোম > দেশজুড়ে > সেন্টমার্টিনে শুরু হলো পর্যটক বহরের প্রথম যাত্রা

সেন্টমার্টিনে শুরু হলো পর্যটক বহরের প্রথম যাত্রা

  • সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৪
  • ৯০

---

দীর্ঘ ১০ মাসের প্রতীক্ষা শেষে আবারও খুলে গেল দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পথ। নানা নীতি নির্ধারণ, পরিবেশগত মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আলোচনার মধ্য দিয়ে অবশেষে যাত্রা করল ৩টি পর্যটকবাহী জাহাজ। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরসকাল থেকেই কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাটে হাজারো মানুষের ভিড়—কারও চোখে উত্তেজনা, কারও চোখে বছরজুড়ে বন্ধ থাকা প্রিয় দ্বীপটিকে আবার দেখতে পাওয়ার আনন্দ।

প্রথম দিনের যাত্রায় অনুমতি পাওয়া ২ হাজারের বদলে ১২০০ পর্যটকই রওনা হন সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে। পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্ধারিত ১২ নির্দেশনা মানানো হচ্ছে কঠোরভাবে। জাহাজে উঠার সময় থেকে শুরু করে ঘাট, জেটিঘাট, প্রতিটি চেকপোস্ট—সবখানেই রয়েছে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের তৎপর উপস্থিতি।


মানবিক দৃশ্য—কঠোর নিয়ম, তবুও আনন্দে ভরা মুখ

নুনিয়ারছড়া ঘাটে ভোর ৬টা থেকেই দেখা যায় সারি সারি লাইনে দাঁড়ানো পর্যটকদের দীর্ঘ অপেক্ষা। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ দম্পতি, কেউ আবার বহু বছর আগের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে। অনেকেই ফুটপাতে বসেই সেরে নেন সকালের নাশতা।

সেখানে চলছে মাইকিং—
“পলিথিন বহন নিষিদ্ধ, পরিবেশ রক্ষায় ১২ নির্দেশনা মানুন”—
একটি মানবিক ও সচেতন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এসব বার্তা পর্যটকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


কঠোর নজরদারিতে প্রশাসন

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান—
“মোট চারটি জাহাজ সেন্টমার্টিনে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ১২ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো পর্যটকই নির্দেশনার বাইরে যেতে পারবেন না।”

পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন—
“জাহাজে যাতায়াত, পলিথিন পরীক্ষা, পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। একদিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না।”


পর্যটকরা বলছেন—‘পরিবেশ রক্ষায় আমরা প্রস্তুত’

ফরিদুল আলম, ভ্রমণপিপাসু—
“২০১৫ সালে গিয়েছিলাম, এবার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা নির্দেশনা মেনেই ভ্রমণ করব। প্রকৃতি রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।”

মুহিব খান, আরেক পর্যটক—
“নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে, এটা খুব ভালো। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে শৃঙ্খলা থাকা জরুরি।”


ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন—
“পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘাট, জাহাজ ও দ্বীপ—সবখানেই নিরাপত্তা জোরদার।”


১২ নির্দেশনা—পরিবেশ রক্ষার নতুন অধ্যায়

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—

  • নভেম্বরে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ

  • ডিসেম্বর–জানুয়ারি: সীমিত রাত্রিযাপন অনুমতি

  • ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মাস পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

  • একদিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক

  • কেভ অরণ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ

  • কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুক সংগ্রহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

  • বারবিকিউ, উচ্চ শব্দ, সৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ

  • একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, পলিথিন, চিপস প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি নিষিদ্ধ

  • কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ

  • মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান নিষিদ্ধ

এ নির্দেশনাগুলো শুধু নিয়ম নয়—প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে নেয়া সিদ্ধান্ত।


আগামী দুই মাস চালু থাকবে চলাচল

সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যাবে আর বিকেল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফেরত আসবে।
দুই মাস পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যাবে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7345 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 01:55:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh