• হোম > বাংলাদেশ > আজ রায়: আলোচনায় পূর্বাচল দুর্নীতি মামলা

আজ রায়: আলোচনায় পূর্বাচল দুর্নীতি মামলা

  • সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬
  • ১০৬

---

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার মেয়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জন আসামির নাম রয়েছে।

রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে শুধু আদালত–কক্ষ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও। প্রায় প্রতিটি টকশো, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মামলা ঘিরে প্রশ্ন, উদ্বেগ, সমালোচনা ও প্রত্যাশা—সবই মিলেমিশে রয়েছে প্রখর জনমতের ভেতর।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম আজ দুপুরে রায় ঘোষণা করবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


ক্ষমতার ছায়া থেকে মানবিক প্রশ্ন

এই মামলার পটভূমি শুধু আইনি বা রাজনৈতিক নয়; এতে রয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তের জবাবদিহির প্রশ্ন। কিন্তু একই সঙ্গে রয়েছে মানবিক বিবেচনা—একসময়ে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবার আজ আইন ও বিচারের মুখোমুখি।

গণ-অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ নতুন করে দুর্নীতি বিরোধী প্রত্যাশায় উদ্বুদ্ধ হয়। সেই সময়েই উঠে আসে পূর্বাচল প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ। দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসে, যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মা শেখ রেহানা, বোন আজমিনা সিদ্দিক এবং ভাই রাদওয়ান মুজিবের জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন।

যদিও বর্তমান মামলায় শুধুমাত্র শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিবকে এই মামলার আসামি করা হয়নি; তবে দুদক তাদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় তদন্ত করছে।


একসময়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভার—আজ আদালত চত্বরে উদ্বেগ

আজ সোমবারের রায় যেন শুধু একটি মামলার রায় নয়। অনেকের কাছে এটি দেশের ভবিষ্যৎ জবাবদিহি কাঠামোর একটি পরীক্ষা। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি হয়তো কম, কিন্তু উদ্বেগ ও আলোচনা ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে।

একজন সাধারণ দোকানদার সকালে সংবাদপত্র হাতে মন্তব্য করলেন,
“যে-ই দোষী হোক, দেশের টাকা যেন আর কেউ চুরি করতে না পারে—এটাই চাই।”

এই সাধারণ মানুষের কণ্ঠেই প্রকাশ পায় দেশের সাধারণ মানুষের মানবিক দাবি—ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা।


১৭ আসামির বিস্তারিত

এই মামলায় আরও ১৪ জন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আসামি। তাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার

  • সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার

  • অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ

  • সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন

  • রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা

  • রাজউকের সাবেক চার সদস্য: মোহাম্মদ খুরশীদ আলম (বর্তমানে কারাগারে), তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী

  • সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম

  • সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম

  • উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন

  • সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ

তদন্তে উঠে আসে, রাজউকের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষমতার প্রভাবে প্রক্রিয়া ছাড়াই প্লট অনুমোদন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।


জন প্রত্যাশা ও মানবিক বার্তা

এই রায় শুধুমাত্র একটি মামলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়—এটি দেশের মানুষের মধ্যে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করতে পারে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেছিলেন—
“আমরা চাই, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক—সবাই আইনের কাছে সমান।”

এটাই একটি মানবিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।


টিউলিপ সিদ্দিক: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পদত্যাগ

বাংলাদেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাজ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন টিউলিপ সিদ্দিক। সমালোচনার মুখে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এটিও মামলাটিকে আন্তর্জাতিক প্রভাব ও নজরদারির পরিসরে নিয়ে যায়।


আজকের রায়—দেশের রাজনীতির জন্য একটি মোড় ঘোরানো দিন

রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নতুন মোড় নিতে পারে। নির্বাহী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে।

জনগণের মানবিক প্রত্যাশা খুব সোজা—যার দোষ, তার শাস্তি হোক; আর যার দোষ নেই, সে যেন ন্যায়বিচার পায়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7341 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 12:21:36 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh