![]()
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলমান চরম বৃষ্টি ও বন্যা জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। ঘূর্ণিঝর দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে।
শ্রীলঙ্কায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ১৯৩ জন নিহত এবং দুই শতাধিক নিখোঁজ। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, এক লাখ ৮ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যাহত, সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ, ৪৭টি ফ্লাইট বাতিল। সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে ৪১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, এখনও ২৭৯ জন নিখোঁজ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্খলা প্রদেশে তিনশ’ বছরের রেকর্ড ভেঙে বৃষ্টি হয়। পানি কিছু এলাকায় আট ফুট উচ্চতায় পৌঁছায়। অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ১৬২ জন নিহত। শহরের হাসপাতালে রোগী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উড়োজাহাজে সরানো হয়। বিদ্যুৎ পুরো শহরে বন্ধ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত।
মালয়েশিয়ায় বন্যায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩৫ হাজার মানুষ জলমগ্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে অঞ্চলটিতে চরম তাপমাত্রা ও সমুদ্রের উষ্ণতা নিম্নচাপ সৃষ্টি করছে, যা ঘূর্ণিঝর ও বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।