![]()
রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। প্রতিদিনের মতো আজও তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। বিএনপি নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই তাঁর আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন।
এই কঠিন সময়েই আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের প্রতি গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন—
“সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে।”
দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই—তারেক
অসুস্থ মায়ের জন্য দেশে ফেরার বিষয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন—
“এটা আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিস্তারিত বলার সুযোগও সীমিত।”
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলেই তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
চিকিৎসার বিষয়ে রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের মানবিক সহযোগিতা
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন—
-
চিকিৎসকদের দেশ–বিদেশের দল সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা দিচ্ছেন,
-
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,
-
কয়েকটি বন্ধুসুলভ রাষ্ট্র উন্নত চিকিৎসার আগ্রহ জানিয়েছে।
এই সমন্বিত মানবিক প্রচেষ্টার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও জানান।
মির্জা আব্বাস: ‘ম্যাডাম চিনতে পেরেছেন, কিন্তু তিনি স্থিতিশীল নন’
শুক্রবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে নেত্রীর খোঁজ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি জানান—
-
খালেদা জিয়া তাঁদের চিনেছেন এবং সালামের জবাব দিয়েছেন,
-
কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা একেবারেই স্থিতিশীল নয়,
-
আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি ব্যক্তিগতভাবে দোয়ার আহ্বান জানান।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের উদ্বেগ
হাসপাতালে খোঁজ নিতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ফেসবুকে লিখেন—
“বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন।”
দীর্ঘদিনের জটিল অসুস্থতা—সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকি
৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া বহুদিন ধরে হার্ট রোগ, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা সমস্যা নিয়ে লড়ছেন।
২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৭ নভেম্বর নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।
লন্ডন থেকে চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি মনিটরিং করছেন।
দেশজুড়ে প্রার্থনা—একজন মা, একজন প্রবীণ নেত্রীর প্রতি মানবিক মনোভাব
রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশজুড়ে একটাই প্রার্থনা—
“বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”
হাসপাতালের ভেতরে সিসিইউর কাঁচের দেয়ালের ওপারে রয়েছেন একজন মা, একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর সুস্থতার জন্য আজ সারাদেশ মানবিকভাবে উদ্বিগ্ন।