• হোম > রাজনীতি > গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশায় জাতি: ফখরুল

গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশায় জাতি: ফখরুল

  • শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২
  • ৫২

---

গোটা জাতি আজ একটি সুশাসিত রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে অস্থির প্রতীক্ষায় রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্য দিয়েই পুনরুদ্ধার সম্ভব। আর সেই নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর মতো।”

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রতি দায়িত্ববোধের আহ্বান

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে সত্য ও যথার্থ সাংবাদিকতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আজ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণতন্ত্রের ভিত্তিকে সুসংহত করতে হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী হয়ে গেলে সাংবাদিকতার মূল চেতনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকরা জনতার কণ্ঠস্বর। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হওয়াই একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব।”

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জনসমক্ষে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। মানবিক আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “তার স্বাস্থ্যের উন্নতি আমাদের সবার প্রত্যাশা। একইসঙ্গে গণতন্ত্রের মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করাও এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি বিষয়।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকট

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে ভিন্নমত ধারণ করাকে এখনো অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেন না। মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও বাস্তবতায় তা দমন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে বহু মত থাকবে, ভিন্নতা থাকবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিন্নমত পোষণ করার কারণে অনেককেই হয়রানির মুখে পড়তে হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র কখনোই বিকশিত হতে পারে না।”

সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সংকট’ ও সমাজে প্রভাব

মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ বিশ্বব্যাপী এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দায়বদ্ধতার অনুপস্থিতিতে সেখানে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের নামে নৈরাজ্য, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।
তিনি মন্তব্য করেন, “ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও যারা ছিলেন

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সিকদার, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ সিনিয়র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন।
দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার ও সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7247 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 07:48:23 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh