![]()
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি প্রশাসন, অর্থব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। দেশে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক পর্বকে ঘিরে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই নেওয়া হয়; তবে এবার নির্দেশনা আরও স্পষ্ট ও কঠোর। এতে বলা হয়েছে—ব্যাংকার এবং এনবিআরসহ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন না। কেবল একান্ত ‘অপরিহার্য’ কারণকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে ধরা হবে।
এই নির্দেশনা অনেককে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা পেশাগতভাবে নানা পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করবে। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের মতে—রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাঠামো সচল রাখা, আর্থিক খাতের প্রতিটি অংশকে সতর্ক ও সক্রিয় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সুশাসন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা: এমডি থেকে জুনিয়র কর্মকর্তা—সবার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন না। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর।
এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো—অর্থব্যবস্থার ওপর নির্বাচন-পূর্ব সময়ে যেন কোনো চাপ বা শূন্যতা তৈরি না হয়। ব্যাংক খাতে দৈনন্দিন কার্যক্রম, লেনদেন নিরাপত্তা, সাইবার সিস্টেম এবং গ্রাহকসেবা স্থিতিশীল রাখতে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য—এমন মতই দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
যদিও বিভিন্ন সময় ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও শিথিলতা দুটোই দেখা গেছে, তবে নির্বাচন সামনে রেখে এবারকার নির্দেশনা তুলনামূলক কঠোর।
এনবিআর ও আইআরডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বিদেশ ভ্রমণে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রাপ্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে—আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ‘অপরিহার্য কারণ’ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না।
এখানে অপরিহার্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
-
চিকিৎসা
-
তীর্থযাত্রা
-
জরুরি সরকারি প্রয়োজন
-
অথবা ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক পরিস্থিতি
এ ছাড়া অন্য যেকোনো সফর স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে স্পষ্টভাবে।
প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের চিঠি: সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগ
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আইআরডি সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা প্রশাসনিকভাবে অস্বাভাবিক ও দায়িত্বহীন আচরণের শামিল।
চিঠিতে আরও বলা হয়—
-
একই মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা একই সময়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন
-
উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও একসঙ্গে বিদেশ সফরে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে
-
বারবার এমন প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে
এ সব আচরণ সরকারি নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মানবিক প্রভাব: অনেকের পরিকল্পনা পরিবর্তন হলেও উদ্দেশ্য ‘স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থা’
এই সিদ্ধান্তে অনেক ব্যাংকার, কর কর্মকর্তারই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা, চিকিৎসা, কিংবা সন্তানদের প্রয়োজনীয় কাজে অনেকেই সুযোগ হারাতে পারেন। তবে অপরিহার্য কারণের ব্যতিক্রম রাখায় জরুরি পরিস্থিতিতে ভ্রমণের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি।
রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখা এবং নির্বাচনকালীন সুশাসন নিশ্চিত করা এ বড় সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কঠোর নজরদারি থাকবে
এ নির্দেশনা শুধু কাগজে নয়—বাস্তবে কঠোরভাবে নজরদারির মধ্যেই থাকবে বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব সংগ্রহ এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচন পর্যন্ত পুরোপুরি সতর্ক থাকবে।