![]()
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত অ-নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের নির্বাচিত সরকারেরই থাকা উচিত।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত দীর্ঘ বিশ্লেষণমূলক পোস্টে তিনি এলডিসি উত্তরণ, অর্থনৈতিক চাপ, রপ্তানি সংকট, বন্দর পরিচালনা এবং জাতীয় কৌশলগত সিদ্ধান্তে জনগণের মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—”যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাদের হাতে জাতির ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখা যায় না।”
মানুষের জীবনের উদাহরণ টেনে তারেকের ব্যাখ্যা
তারেক রহমান তাঁর লেখায় বাস্তব জীবনের সাধারণ মানুষের সংকট তুলে ধরে বলেন, গাজীপুরের এক ক্ষুদ্র পোশাক কারখানার মালিকের গল্পই বোঝায় এলডিসি সুবিধা হারালে সবচেয়ে ক্ষতি হয় তৃণমূল স্তরে। বহু বছর ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও যিনি শত শ্রমিককে নিয়ে কারখানা টিকিয়ে রেখেছেন, সেই শ্রমিক-মালিক দুজনই শুল্ক-সুবিধা হারানোর ধাক্কায় হঠাৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে যান।
আরেক উদাহরণে তিনি তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জের সদ্য স্নাতক এক তরুণীর পরিবারের কথা—যেখানে তার বাবার অতিরিক্ত ওভারটাইমই সংসারের ভরসা। রপ্তানি মন্থর হলেই প্রথমে ওভারটাইম বন্ধ হয়, পরে শিফট কমে এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়ে।
তারেকের দাবি, “এসব সংকটের কোনো অংশই সংবাদ শিরোনামে আসে না। এগুলো সাধারণ মানুষের নিঃশব্দ বেদনা, যাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তারা নিজেরা কোনো ভোট দেয়নি, কোনো পরামর্শও চাওয়া হয়নি।”
‘বিকল্প নেই’—এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন তিনি
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণ স্থগিতের কোনো সুযোগ নেই—এই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক নথিপত্র ও উদাহরণই প্রমাণ করে যে সময় বাড়ানো অসম্ভব নয়।
তিনি মনে করেন—
-
অ্যাঙ্গোলা, সামোয়ার মতো দেশ এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়িয়েছে।
-
জাতিসংঘের নিয়মেই বলা আছে—অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে সময় বাড়ানো সম্ভব।
তারেকের বক্তব্য, “স্থগিত চাওয়াটাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়। কিন্তু আমরা নিজেরাই ভান ধরে আছি—যেন আমাদের কোনো বিকল্প নেই।”
জাতীয় কৌশলগত সম্পদ—চট্টগ্রাম বন্দরের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ
চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তকেও এলডিসি ইস্যুর প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন,
“বন্দরকে কেন্দ্র করে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো রুটিন কাজ নয়। এগুলো জাতীয় সম্পদের উপর কৌশলগত অঙ্গীকার, যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দেওয়ার মতো করে এগিয়ে নিচ্ছে।”
তারেকের মতে,
-
আলোচনার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে
-
জনমতের প্রতি গুরুত্ব নেই
-
যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নগুলোকে ‘অনিবার্যতা’র অজুহাতে চাপা দেওয়া হচ্ছে
তিনি স্পষ্ট করে বলেন—এ মন্তব্য কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য নয়; বরং প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য।
‘অধিকার’ থাকা মানেই ‘প্রস্তুতি’ থাকা নয়
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার অধিকার অর্জন করলেও প্রস্তুতির ঘাটতি বাস্তবতা থেকে চোখ সরিয়ে রাখা যায় না। ব্যাংক খাতের সংকট, ডলারের চাপ, রপ্তানি মন্থরতা ও ঋণঝুঁকি—এসব বিষয়ের সমাধান ছাড়া এলডিসি উত্তরণ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
গণতন্ত্রই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের ভিত্তি
তারেক রহমান বলেন,
“জাতির ভবিষ্যৎ এমন সরকারের হাতে থাকা উচিত নয়, যাদের প্রতি জনগণের কোনো জবাবদিহি নেই। জাতীয় সিদ্ধান্তে কৌশলগত ধৈর্য দুর্বলতা নয়; বরং তা গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক।”
তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্লিপ্ত ছিল না। সম্মান, মত প্রকাশের অধিকার এবং নির্বাচনের স্বাধীনতাই দেশের মানুষের অগ্রযাত্রার প্রধান ভিত্তি।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশাবাদ
তারেক রহমান বলেন,
“২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই হলো সেই সুযোগ যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত জানানোর অধিকার ফিরে পাবে। দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে, দেশেরই মানুষ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সত্যকে সামনে রেখে।”