• হোম > বাংলাদেশ > আইসিইউতে ৪১% রোগী অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিক্রিয়াশীল নয়: আইইডিসিআর

আইসিইউতে ৪১% রোগী অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিক্রিয়াশীল নয়: আইইডিসিআর

  • সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:২৯
  • ৩৯

---

দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (এএমআর) বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীর ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) আইইডিসিআরের নতুন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৯৬,৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা দেখা হলে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৭ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৪১ শতাংশ, মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৪৬ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৮৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। হু ওয়াচ-গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার ৭৭ শতাংশ থেকে ৯০.৯ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩%) ও মেরোপেনেম (১৬%)।

প্রফেসর হাবিব সতর্ক করেছেন, “অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়মহীন ও অতিরিক্ত ব্যবহার এএমআরকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এটি দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।”

আইইডিসিআরের পরিচালক প্রফেসর ড. তাহমিনা শিরিন জানান, দেশে বেআইনি ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে এএমআর সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং জনগণকে সচেতন হতে হবে। নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ৫৭ শতাংশ ঢাকায় হয়েছে। ব্যবহার প্রধানত বেশি দেখা গেছে মূত্রনালী সংক্রমণের (ইউটিআই) রোগীদের মধ্যে।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে রয়েছে— সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজোল, ক্লক্সাসিলিন, পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাকটাম ও ভ্যানকোমাইসিন।

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7099 ,   Print Date & Time: Friday, 6 February 2026, 08:22:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh