• হোম > আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স > ভবিষ্যতের চাকরিতে AI-এর ভূমিকা

ভবিষ্যতের চাকরিতে AI-এর ভূমিকা

  • শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ২২:২৭
  • ৮০

---

বর্তমান কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অটোমেটেড সার্ভিস পরিচালনা এবং কনটেন্ট মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। McKinsey Global Institute-এর গবেষণা অনুযায়ী, নিকট ভবিষ্যতে AI বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন করতে সক্ষম হবে। ফলে কর্পোরেট লিডার এবং কর্মীদের উচিত AI-এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

AI ভবিষ্যতের চাকরি বাজারকে মূলত তিনভাবে প্রভাবিত করবে। প্রথমত, সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো AI দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, কাস্টমার সার্ভিসে চ্যাটবট ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, AI অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মার্কেটাররা জেনারেটিভ AI ব্যবহার করে দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন, যা কাজের গতি ও মান দুই-ই বৃদ্ধি করছে। এবং তৃতীয়ত, AI-নির্ভর প্রযুক্তির কারণে নতুন পেশার উদ্ভব হচ্ছে, যেমন Prompt Engineer, AI Ethics Officer এবং Machine Learning Product Manager।

কর্পোরেট দুনিয়ায় AI কেবল অটোমেশন নয়, বরং একটি কৌশলগত মূল্য সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করছে। AI-নির্ভর অটোমেটেড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপারেশনাল খরচ কমানো সম্ভব। এছাড়া, AI-চালিত অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে বাজার পূর্বাভাস, ভোক্তা আচরণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে AI-নিয়ন্ত্রিত লার্নিং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে AI নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে BPO, কৃষি প্রযুক্তি, ফিনটেক এবং হেলথটেক খাতে। দেশে AI ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, প্রম্পট স্পেশালিস্ট এবং AI কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে রয়েছে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং (NLP), ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম, মেশিন লার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক এবং জেনারেটিভ AI।

সর্বমোট, ভবিষ্যতের চাকরি বাজার AI-কেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। তাই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত AI-সমৃদ্ধ কৌশল গ্রহণ করা এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের উচিত নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যাদের অভিযোজনের গতি দ্রুত হবে, তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। AI কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ প্রতিস্থাপন করবে, তবে একই সঙ্গে নতুন পেশার সৃষ্টি হবে। মূল চাবিকাঠি হলো reskilling ও upskilling। CEO হিসেবে AI গ্রহণের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানের সেই অংশ চিহ্নিত করা যেখানে AI সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এবং ছোট পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশে BPO, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি প্রযুক্তি, ফিনটেক এবং রিটেইল খাতে AI সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/6759 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 07:40:19 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh