• হোম > বিদেশ > হচুল বনাম স্টেফানিক: ২০২৬ নির্বাচনে নিউইয়র্কে তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হচুল বনাম স্টেফানিক: ২০২৬ নির্বাচনে নিউইয়র্কে তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা

  • শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:২৩
  • ৫৮

---

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোর পরাজয়কে যেন এখনো মেনে নিতে পারছেন না সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাঁর ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক এবার নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

২০২৬ সালের নভেম্বরে রাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বর্তমান ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুল।


স্টেফানিকের ঘোষণা

৪১ বছর বয়সী কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ এক পোস্টে ক্যাথি হচুলকে “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যর্থ গভর্নর” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, হচুলের নেতৃত্বে নিউইয়র্ক এখন দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্টেফানিক ২০১৪ সাল থেকে নিউইয়র্কের ২১তম কংগ্রেসনাল আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং ২০১৯ সালে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার সময় তাঁর অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ ছিলেন।


জোহরান মামদানি ইস্যুতে বিতর্ক

স্টেফানিক অভিযোগ করেন, গভর্নর হচুল নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির প্রতি দেরিতে সমর্থন জানিয়ে ভুল করেছেন।
তিনি বলেন,

“হচুল এক ‘কমিউনিস্ট নেতা’র কাছে মাথা নত করেছেন, যিনি পুলিশের তহবিল বন্ধ ও কর বৃদ্ধি করে নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছেন।”

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


হচুলের পাল্টা জবাব

স্টেফানিকের ঘোষণার পর গভর্নর ক্যাথি হচুল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন,

“স্টেফানিক হলেন ট্রাম্পের কংগ্রেসে এক নম্বর চিয়ারলিডার এবং নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধে তাঁর ডান হাত।”

ট্রাম্প এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে থাকাকালে স্টেফানিককে জাতিসংঘে মার্কিন দূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তবে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার কৌশলে সেই মনোনয়ন পরে প্রত্যাহার করা হয়।


জনমত জরিপে হচুল এগিয়ে

সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ৫২% ভোটার এখনো হচুলকে সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে স্টেফানিকের প্রতি সমর্থন ২৭ শতাংশ।
তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৫২% ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা ২০২৬ সালের নির্বাচনে “নতুন মুখ” দেখতে চান।


প্রাইমারি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

স্টেফানিককে গভর্নর প্রার্থী হতে হলে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচন পেরোতে হবে।
একইভাবে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতেও হচুলের মুখোমুখি হতে পারেন তাঁর ডেপুটি গভর্নর অ্যান্টনি ডেলগাডো।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে সর্বশেষ রিপাবলিকান গভর্নর ছিলেন জর্জ পাটাকি, যিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।


বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে,

  • এলিস স্টেফানিকের প্রার্থিতা ট্রাম্পের রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের নতুন প্রচেষ্টা।

  • জোহরান মামদানিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মতাদর্শিক বিভাজন রিপাবলিকানদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • তবে নিউইয়র্ক ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটপ্রবণ রাজ্য হওয়ায় স্টেফানিকের জয়ের পথ সহজ নয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/6509 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 06:44:05 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh