![]()
ভিয়েতনামের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যেই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভ্যান জিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে রবিবার (২ নভেম্বর) হ্যানয়ে পৌঁছেছেন পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ। সফরকালে তিনি ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বৈঠকের আগে পিট হেগসেথ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী ও স্বাধীন ভিয়েতনামকে সমর্থন করে। আমরা যে প্রকল্পগুলো শুরু করেছি, তা শুধু অব্যাহতই থাকবে না—আরও সম্প্রসারিত হবে। দুই দেশের মধ্যে গভীরতর সহযোগিতা উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।”
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামের কোস্টগার্ডকে তিনটি টহলজাহাজ এবং বিমানবাহিনীকে তিনটি টি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ করেছে। এটি মোট ১২টি উড়োজাহাজের ক্রয়চুক্তির অংশ, এবং পেন্টাগন জানিয়েছে এই সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২০১৬ সালে ভিয়েতনামের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। রাশিয়ান অস্ত্রের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরশীল ভিয়েতনাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
যদিও এখনো বড় কোনো অস্ত্রচুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, আলোচনায় রয়েছে লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন উড়োজাহাজ ও এস-৯২ হেলিকপ্টার, পাশাপাশি বোয়িংয়ের চিনুক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধকালীন অবশিষ্ট সমস্যা—বিশেষ করে ডাইঅক্সিন দূষণমুক্তকরণ—বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার চুক্তিও হয়েছে।
পিট হেগসেথ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এসব প্রকল্প শুধু অব্যাহত রাখবে না, বরং নতুন উদ্যোগও নেবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র–ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এখন হ্যানয়ের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা জোরদারে মনোযোগী হয়ে উঠেছে।