• হোম > রাজনীতি > জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘দুরূহ চ্যালেঞ্জ’ দেখছে সরকার

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘দুরূহ চ্যালেঞ্জ’ দেখছে সরকার

  • শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৯
  • ৫৩

---

রাজনৈতিক অনৈক্য ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের জটিল প্রেক্ষাপটে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রস্তাব কার্যকরের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হলেও গণভোটের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র মতবিরোধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।

গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এই ইস্যুটি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চান—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজন করা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে। অধিকাংশ উপদেষ্টা একসঙ্গে আয়োজনের পক্ষে মত দেন, যদিও প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।


দ্বিধা ও চাপে সরকার

সরকার এখন দুই ধরণের চাপের মুখে। একদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বিরোধ। আইনি ও নৈতিক বৈধতার প্রশ্নে এই সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন,

“২৭০ দিনের আলোচনার পরও যে অনৈক্য দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। এখন প্রশ্ন—এই অবস্থায় সমঝোতার দলিল কীভাবে পাস হবে? এটি আমাদের জন্য এক দুরূহ চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও বলেন,

“একদিকে প্রস্তাব পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে গণভোটের সময় নিয়ে বিরোধ। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এমন অবস্থানে থাকে, সরকার কীভাবে পদক্ষেপ নেবে—এটা এখন সত্যিই ভাবনার বিষয়।”


একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোটের ভাবনা

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,

“সরকার জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করছে। খুব দ্রুত পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”


ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ

গত মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • বিশেষ আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হবে;

  • গণভোটে অনুমোদন পেলে পরবর্তী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে;

  • পরিষদকে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

তবে গণভোটের সময় নির্ধারণের দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে কমিশন।


তীব্র অনৈক্য, নতুন দ্বন্দ্ব

সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান তীব্রভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

  • বিএনপি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের এখতিয়ার নেই। তারা গণভোটকে “অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়” বলে অভিহিত করেছে।

  • জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে।

  • এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) জানিয়েছে, সরকারের পদক্ষেপ দেখেই তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেবে।

ফলে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, তা উল্টো নতুন বিরোধের জন্ম দিয়েছে।


দ্রুত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার দ্বিধায় থাকলেও সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই আসবে।

“আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, তা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করব। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে না,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সেইসঙ্গে সরকার চায়, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও একই ধারায় এগিয়ে যাক।


হিউম্যানিটারিয়ান প্রেক্ষাপট

সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়—এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। জুলাই সনদে যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়িত হলে জনগণ পেতেন এক নতুন আশার আলো। কিন্তু বর্তমান অনৈক্য সেই আশায় ধুলো ফেলছে।

এক প্রবীণ শিক্ষক মন্তব্য করেন,

“জুলাই সনদ ছিল আমাদের মুক্ত ভবিষ্যতের চুক্তিপত্র। যদি আবার রাজনীতির দ্বন্দ্বে তা হারিয়ে যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ফিরবে না।”


সারসংক্ষেপ

  • রাজনৈতিক অনৈক্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় বাধা।

  • সরকার ভাবছে, নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা যায় কি না।

  • বিএনপি ও কয়েকটি দল বিরোধী অবস্থানে।

  • ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি অব্যাহত।

  • সরকার বলছে, দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/6152 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 06:44:00 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh