• হোম > রাজনীতি > নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকর্তা নয়: সিইসির সঙ্গে বিএনপির আলোচনা

নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকর্তা নয়: সিইসির সঙ্গে বিএনপির আলোচনা

  • বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:৫৩
  • ৭০

---

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা যেন না থাকে—এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে প্রশাসনকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলেই গত তিনটি নির্বাচনে জনগণ প্রহসনের শিকার হয়েছে।
“আমরা চাই, এবারের নির্বাচন এমন হোক, যেখানে জনগণ ভোট দিতে পারবে ভয়মুক্তভাবে, প্রশাসন কাজ করবে নিরপেক্ষভাবে, আর নির্বাচন কমিশন থাকবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে,”—বলেন মঈন খান।


নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের আহ্বান

মঈন খান বলেন, “অতীতের সব কর্মকর্তা বদলানো সম্ভব নয়। কিন্তু যারা আগে চাপ বা ভয়ে অন্যায় করেছে, তাদের এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সঠিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশিরা গণতন্ত্রপ্রেমী জাতি। যদি তারা দেখেন নির্বাচন সত্যিই সুষ্ঠু হবে, তবে তা উৎসবে পরিণত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কোনো দলীয় লাভ নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ। ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের পর, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের নতুন দিশা দেখিয়েছে। এখন সময় এসেছে ১৮ কোটি মানুষকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেওয়ার—যেখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কথা বলবেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দেবেন।”


নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

বিএনপি নেতা বলেন, “একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। যদিও তাদের নিজস্ব জনবল সীমিত, তবু ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্র ও ৩ লাখ বুথে ভোট পরিচালনা করতে প্রায় ১০ লাখ লোকবল প্রয়োজন—যা প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের সহযোগিতায় আসে। তাই এই বিশাল কাঠামো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি দৃশ্যমানভাবে নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে পারে, তবেই দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ তৈরি হবে।”


নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

মঈন খান জানান, বিএনপি আগেই নির্বাচনী সংস্কার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “কমিশন যদি আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়ন করে, তাহলে আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই এই নির্বাচন জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনুক, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরছে।”

বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াসহ দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


মানবিক ও গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরেও এই আলোচনার বার্তা মানবিক। এটি এমন এক সময় এসেছে, যখন জনগণ শুধু ভোট নয়, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক আচরণ প্রত্যাশা করছে।

একজন পর্যবেক্ষক বলেন, “যদি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো একইসঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেয়, তাহলে এই নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিণতির সূচনা।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/5850 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 07:28:50 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh