• হোম > বিনোদন > প্রাণ আর ভালোবাসার গল্প ‘ক্যারামেলো’

প্রাণ আর ভালোবাসার গল্প ‘ক্যারামেলো’

  • বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:৩০
  • ৭৮

---

মানুষ আর তার পোষা প্রাণীর বন্ধন কতটা গভীর হতে পারে, তা বোঝা যায় ব্রাজিলিয়ান চলচ্চিত্র ‘ক্যারামেলো’–তে। রূপকথা নয়, নেই অতিনাটকীয়তা—এ সিনেমা জীবনের মতোই বাস্তব, মনকে ছুঁয়ে যায় তার নিঃশব্দ মমতায়।

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে অ-ইংরেজি ভাষার গ্লোবাল টপচার্টের শীর্ষে থাকা এই চলচ্চিত্রটি এখন হয়ে উঠেছে পৃথিবীজোড়া দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


একনজরে

সিনেমা: ক্যারামেলো
ধরন: ড্রামা
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স
দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিট
পরিচালক: দিয়েগো ফ্রেইতাস
চিত্রনাট্য: দিয়েগো ফ্রেইতাস, রড আজেভেদো ও ক্যারোলিনা কাস্ত্রো
অভিনয়: রাফায়েল ভিত্তি, আরিয়ান বোটেলহো, নোমিয়া অলিভেইরা, কেলজি ইকার্ড, ব্রুনো ভিনিসিয়াস ও আমেনদোইম (কুকুর)


এক কুকুরের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এক মানুষের গল্প

পেদ্রো নামের এক তরুণ রাঁধুনি—স্বপ্ন তার একদিন নিজেই হবেন শেফ। নিজের বানানো রেসিপি একদিন জায়গা পাবে রেস্তোরাঁর মেনুতে—এই ছোট্ট স্বপ্নটাই তার সব। একদিন ঠিক তাই ঘটে যায়, কিন্তু তার পরপরই জীবনে নামে অন্ধকার।

রাস্তার এক ভবঘুরে কুকুর ক্যারামেলো তার জীবনে ঢুকে পড়ে এক অদ্ভুত সময়ে—যখন সবকিছু হারিয়ে যাচ্ছে। পেদ্রো টের পান, আশ্রয় শুধু মানুষে নয়, ভালোবাসা কখনো চার পায়ে হেঁটে আসে, চোখে তাকায় মায়ায় ভরা দৃষ্টিতে।

সেই কুকুর হয়ে ওঠে পেদ্রোর বেঁচে থাকার শক্তি, আশার আলো, এবং শেষ পর্যন্ত তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক পরম বন্ধু।


বাস্তবতার ভেতর মায়ার গল্প

পরিচালক দিয়েগো ফ্রেইতাসের গল্প বলার ভঙ্গি শান্ত ও ধীর। এখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় নাটক নেই, নেই কৃত্রিম কান্না বা চমক। বরং আছে জীবনের মতোই নিঃশব্দ এক চলমানতা।

‘ক্যারামেলো’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই—এটি দর্শককে কাঁদায় না, বরং নরম করে দেয় হৃদয়টা। আপনি ভাবতে শুরু করেন, হয়তো আপনার কাছেও কোথাও একটা ‘ক্যারামেলো’ অপেক্ষা করছে।


ক্যারামেলো—যে কুকুর দর্শকের হৃদয় চুরি করে নেয়

চলচ্চিত্রে ‘ক্যারামেলো’ চরিত্রে অভিনয় করেছে মাত্র তিন মাস বয়সী এক বাস্তব কুকুর—আমেনদোইম।
তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল এই চরিত্রের জন্য। কোনো CGI নয়, কোনো কল্পনার কুকুর নয়—বাস্তবের প্রাণী, বাস্তবের অনুভূতি।

কুকুরটির প্রতিটি অভিব্যক্তি, দৌড়ানো, বা চোখে-মুখে এক মুহূর্তের আনন্দ—সবকিছুই মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা কৃত্রিম হয় না।

ব্রাজিলে এই জাতের মিশ্র প্রজাতির কুকুরকে ‘ক্যারামেলো’ বলা হয়—যা এখন তাদের সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। এমনকি অনেকেই চান, কুকুরটি হোক দেশের জাতীয় প্রতীক।


চিত্রগ্রহণ ও আবহসংগীত—যেন মাটির গন্ধে ভরা এক ভালোবাসা

চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি একেবারে চোখ জুড়ানো। মাটির মতো রঙ, শহরের শান্ত টোন, রান্নাঘরের উষ্ণ আলো—সবকিছু যেন বলে যায়, “এ জীবন সুন্দর, যদি ভালোবাসা থাকে।”

রাফায়েল ভিত্তি পেদ্রোর চরিত্রে প্রাণ দিয়েছেন; তাঁর হতাশা, হাসি, এবং ক্যারামেলোর সঙ্গে সম্পর্ক ফুটে উঠেছে গভীর সংবেদনশীলতায়।
আবহসংগীতও স্নিগ্ধ, গল্পের আবহে ঢেলে দেয় নিঃশব্দ মেলোডি।


একটি ছোট গল্প, বড় এক উপলব্ধি

‘ক্যারামেলো’ শেষ হয় অনুমিত এক পরিণতিতে—তবুও মনে হয়, এই গল্পের শেষ নেই।
শেষ দৃশ্যে যখন পেদ্রো আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে ওঠেন, দর্শক তখন বুঝে যান—এই গল্প আসলে আমাদেরই গল্প।

ভালোবাসা, ক্ষতি, বন্ধুত্ব—সবকিছু মিলিয়ে ক্যারামেলো এমন এক সিনেমা, যা আপনাকে ভাবাবে, আপনাকে নরম করে দেবে।

দেখা শেষে হয়তো আপনার মন বলবে—

“কুকুর নয়, সে ছিল আমার বন্ধু।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/5799 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 12:39:34 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh