• হোম > বাংলাদেশ > সরকারের কাছে তৎপরতা চাইছেন মির্জা ফখরুল

সরকারের কাছে তৎপরতা চাইছেন মির্জা ফখরুল

  • বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:১৫
  • ৭৫

---

বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলমকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করায় উদ্বেগ ও নিন্দার সঙ্গে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুরে এ ঘটনার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে সরকারের প্রতি দ্রুত এবং সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল লিখেছেন, “শহিদুল আলমকে মুক্ত করুন। আমি সরকারকে তার নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি সতর্ক করেছেন—সাংবাদিক এবং মানবতাবাদী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক দায়িত্বও বটে; রাষ্ট্রের উচিত তার নাগরিকের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

শহিদুল আলম নিজে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি видеоবার্তা আপলোড করেন। ভিডিওতে তিনি জানান, তাদের বহনকারী জাহাজ ‘দ্য কনশেনস’-এ ইসরায়েলি বাহিনী হামলা করে তাদের আটকে রাখেছে এবং তাকে অপহরণ করা হয়েছে। শহিদুলের শেষ বক্তব্যে তিনি বিশ্ববাসী ও সহযোদ্ধাদের “ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম” চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।

ফ্লোটিলা পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, কনশেনস জাহাজে প্রায় ৯৩ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মী ছিলেন। একই সঙ্গে তাদের অন্যান্য তিনটি ছোট নৌকাও ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতায় আটক বা দখল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে এবং সমস্ত যাত্রীদের নিরাপদ রাখা হয়েছে—তবে স্বাধীন উৎস থেকে পাওয়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে আটক ও অপহরণের খবর স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ঘটনায় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা এবং আটক-নিরাপত্তাহীনতা গণমাধ্যম স্বাধীনতার মর্মবোধকে ধাক্কা দেয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ কভারেজ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে ব্যপকভাবে স্বীকৃত।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনার বিশ্লেষণে উঠে আসে দুটি তৎপর আহ্বান—একটি হচ্ছে অবিলম্বে হৃদ্য এবং সুষ্ঠু কূটনৈতিক মোড়ক ব্যবহার করে আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা; আরেকটি হলো সাংবাদিক ও মানবতাবাদীদের নিরপেক্ষ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সম্মান করা এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা প্রতিশোধমূলক ব্যবহারের কড়া বিরোধিতা করা।

সরকার যদি দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেল, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিশনসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে শহিদুল আলমসহ আটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে, তবে তা মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবেও গণ্য হবে—এটাই অনেকে মনে করছেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/5374 ,   Print Date & Time: Thursday, 5 February 2026, 08:24:46 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh