• হোম > অর্থনীতি > পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেরত আসতে পারে ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেরত আসতে পারে ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

  • মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৪
  • ৮৪

---

সরকার আশাবাদী যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে — বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, পাচারকারিরা অর্থ লুকাতে ও সরকারের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে; তাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে টাকা ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে এবং তাই সময় লাগে। তিনি যোগ করেছেন, “কেউ যদি বলে আমি কেবল সুইস ব্যাংকে ফোন করে টাকা নিয়ে আনব — সেটা সম্ভব না। আইনি ফরমালিটি ছাড়াই কোনো সরকারটি এটি করতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, দেশে এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশের আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা জানান, কে কোথায় অ্যাকাউন্ট খুলেছে, কোন কোন দেশে তাদের পাসপোর্ট রয়েছে—এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এখন লিগ্যাল পদ্ধতিগুলো সম্পন্ন করলেই টাকা প্রত্যর্পণ সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে এবং “অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে” — ফলে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অংশবিশেষ দেশে আসতে পারে।

এক প্রশ্ন ছিল, নতুন সরকার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে কিনা—এর উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “চালিয়ে যেতে তারা বাধ্য। কারণ এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা না থাকলে টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে না। এটি আন্তর্জাতিক অনুশীলন — এটা ছাড়া আনা যাবে না।” তিনি পরিমাণ সম্পর্কে সরাসরি কোনো সংখ্যা জানাননি এবং বলেন, এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেই জানতে হবে।

সাংবাদিকরা আরো জানতে চেয়েছিলেন—বাকি কত টাকা ফেরত আনা যাবে এবং সম্প্রতি আবারও পাচারের মতো অভিযোগ এসেছে কিনা। অর্থ উপদেষ্টা বললেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে একটি সমন্বিত রিপোর্ট শিগগিরই দেবে; সরকার এখনও একটি রিভিউ করছে যাতে বোঝা যায় কতটুকু আনা সম্ভব।

ড. সালেহউদ্দিন আরেকবার জোর দিয়ে বললেন, সম্পদ উদ্ধার কাজের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আইনি কাগজপত্র সঠিকভাবে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এতে কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু সরকারের ইচ্ছা রয়েছে দ্রুত ফল আনার।

মানবিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পাচার হওয়া অর্থের সফল প্রত্যর্পণ শুধুই আইনি বা কূটনৈতিক সাফল্য নয়—এটি দেশের অর্থনীতিকে শক্ত করতে, জনসম্পদের উন্নয়ন ও দুর্নীতি মোকাবিলায় কার্যকর তহবিল যোগাতে সহায়ক হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত সম্পদ দ্রুত ফিরে এলে সমাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের সরকারি ব্যবস্থায় আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/5128 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 07:58:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh