• হোম > বাংলাদেশ > বঙ্গোপসাগরে ঐতিহাসিক সামুদ্রিক জরিপ

বঙ্গোপসাগরে ঐতিহাসিক সামুদ্রিক জরিপ

  • বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১৯:১৩
  • ৬৪

---

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণে গবেষণা করছে নরওয়ের জাহাজ R.V. Dr. Fridtjof Nansen

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সামুদ্রিক ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (EEZ) শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এক সামুদ্রিক গবেষণা জরিপ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সহযোগিতায় নরওয়ের অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ “R.V. Dr. Fridtjof Nansen” ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Fisheries Resources and Ecosystem Survey পরিচালনা করছে বঙ্গোপসাগরে।

২৬ জন বিজ্ঞানীর সমন্বিত দল

জরিপে কাজ করছেন মোট ২৬ জন বিজ্ঞানী। এর মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশের। তাদের সঙ্গে রয়েছেন নরওয়ে ও অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা সমুদ্রের মাছের মজুদ, ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্য বাংলাদেশের টেকসই মৎস্য আহরণ, নীতিনির্ধারণ ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাহাজের যাত্রা ও বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ

গবেষণা জাহাজটি ২১ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় প্রবেশ করে।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভার্চুয়ালি গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং গবেষক ও ক্রুদের সাথে মতবিনিময় করেন। সভায় সচিব (MoFL), মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DoF)সহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

“বাংলাদেশের জন্য বৈপ্লবিক উদ্যোগ”

গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন—

“বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ অপরিসীম, কিন্তু এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার সীমিত। এই জরিপ আমাদের টেকসই মৎস্য আহরণ, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন কৌশল নির্ধারণে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।”

পটভূমি: কেন জরুরি এই জরিপ?

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণের (২০১২ ও ২০১৪ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের রায়) পর বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্ভাবনার কথা জানা যায়। তবে এ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের মাছের মজুদ বা ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য নিয়ে সমন্বিত গবেষণা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই জরিপ বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি (Blue Economy) বিকাশে যুগান্তকারী অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে দেশ সঠিকভাবে মাছ আহরণ, প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পনা নিতে পারবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

“R.V. Dr. Fridtjof Nansen” হলো জাতিসংঘের পতাকাবাহী বিশ্বখ্যাত একটি গবেষণা জাহাজ। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি ইতিমধ্যে সামুদ্রিক গবেষণা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে অনেক দেশ তাদের মৎস্যনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে এই জাহাজের আগমনকে বিশেষজ্ঞরা “সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণার নতুন যুগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সামনের পথ

এই জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকার একটি Marine Resource Database তৈরি করবে। যা ভবিষ্যতে মৎস্য আহরণের কোটাসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে ব্যবহার হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও এটি সহায়ক হবে।

তথ্যবক্স

গবেষণা জরিপের মূল লক্ষ্য:

মাছের মজুদ নিরূপণ

ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরীক্ষণ

মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পর্যালোচনা

সময়কাল: ২১ আগস্ট – ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অংশগ্রহণকারী: ২৬ জন বিজ্ঞানী (বাংলাদেশি ১৩ জন)

গবেষণা জাহাজ: R.V. Dr. Fridtjof Nansen

সহযোগী সংস্থা: FAO (জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা)


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/4180 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 06:29:12 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh