![]()
বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সেতু, যা অফিসিয়ালি ‘মাওলানা হামিদ ভাসানী সেতু’ নামে পরিচিত, আগামীকাল উদ্বোধনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর খেয়াঘাটকে কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার চিলমারি খেয়াঘাটের সঙ্গে এই সেতু সংযুক্ত করেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বাসসকে জানান, দীর্ঘদিনের জনদাবির পর তিস্তা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১২ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে এটি সম্পন্ন হয়।
মূল তথ্য এক নজরে:
-
সেতুর দৈর্ঘ্য: ১,৪৯০ মিটার
-
ব্যয়: ৮৮৫ কোটি টাকা
-
অর্থায়ন: সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও বাংলাদেশ সরকার
-
নির্মাণ: চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন
-
অতিরিক্ত অবকাঠামো: ২৫ কিমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ৫০ কিমি সংযোগ সড়ক
সেতুতে রয়েছে ৩০টি পিলার, যার মধ্যে ২৮টি নদীতে ও ২টি তীরে অবস্থিত। প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার নদী ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে এবং দুই পাশে মোট ৫৭.৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
এলজিইডি কর্মকর্তা জানান, সেতুটি চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের ভ্রমণ দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, “এটি উত্তরাঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়তা করবে। এটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সবচেয়ে বড় সেতু।”