• হোম > এক্সক্লুসিভ | বাংলাদেশ | স্টার্ট আপ > বাংলাদেশে স্টার্টআপ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: চালু হলো ‘স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪

বাংলাদেশে স্টার্টআপ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: চালু হলো ‘স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪

  • বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫, ২০:৫৯
  • ১৭২

স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪” উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে — যেখানে প্রযুক্তি, মেন্টরশিপ ও পুঁজি এক ছাতার নিচে আসছে।

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

‘স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪’ বাংলাদেশে উদ্যোক্তা সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে অন্যতম পদক্ষেপ। এটি স্টার্টআপদের শুধুমাত্র টিকে থাকার নয়, বরং বিকশিত হবার সুযোগ করে দিচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক

বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪’ চালু করেছে, যা দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দীর্ঘদিন ধরে স্টার্টআপগুলো যে অর্থনৈতিক সহায়তার অভাবে সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারছিল না, এই নীতিমালা তাদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।

নীতিমালাটির মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোর জন্য জীবনচক্রভিত্তিক অর্থায়নের একটি সুগঠিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রান্ট, পরবর্তী পর্যায়ে কনভার্টিবল ঋণ এবং পরিণত পর্যায়ে ইক্যুইটি ফান্ডিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার পর্যায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুঁজি পেতে সক্ষম হবেন।

এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর ক্ষমতা ও ভূমিকার সম্প্রসারণ, যার মাধ্যমে সরকার সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে, সরকারি প্রকল্পে স্টার্টআপদের পাইলট প্রকল্প চালানোর সুযোগ এবং সরকারি ক্রয়ের অংশ হতে পারাও এই নীতির একটি যুগান্তকারী সংযোজন। এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) ভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানকে উৎসাহিত করবে।

এছাড়া, ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ও ইনোভেশন ফান্ড সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এ নীতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক, যা স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও সমাধানগুলোকে বাস্তবায়নে নতুন বিনিয়োগ পথ খুলে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের এই অর্থনৈতিক নীতিমালা কেবল অর্থায়নই নয়, বরং উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। স্টার্টআপদের জন্য এটি হবে একটি সহায়ক পরিবেশ যেখানে বিনিয়োগ, পরামর্শ, সরকারি সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সবকিছুই এক ছাতার নিচে মিলবে।

নীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

অর্থায়নের সমন্বিত কাঠামো: স্টার্টআপের জীবনচক্র অনুযায়ী গ্রান্ট, কনভার্টিবল ঋণ ও ইক্যুইটি অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ: সরকার-নিয়ন্ত্রিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন ভূমিকা ও কার্যক্রম।

ইনোভেশন ফান্ড ও ক্রাউডফান্ডিং সুবিধা: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধানগুলোর জন্য বাজেটের নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ।

সরকারি ক্রয়ে স্টার্টআপের অংশগ্রহণ: সরকারি প্রকল্পে পাইলটিং সুবিধা ও প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পথ সুগম করা।

নগদ প্রবাহ সহায়তা: স্টার্টআপগুলোর ট্যাক্স রিবেট ও অন্যান্য ইনসেনটিভের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

ডিজিটাল পল্লী স্ট্যান্ডিং কমিটির, ই- ক্যাব -এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“এই নীতিমালা স্টার্টআপগুলোর জন্য কেবল অর্থের ব্যবস্থা নয়, বরং একটি সিস্টেমেটিক সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তুলবে – যেখানে সরকার, বিনিয়োগকারী, এক্সিলারেটর ও উদ্যোক্তা একসাথে এগিয়ে যাবে।”

উদ্দেশ্য ও প্রভাব:

‘স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পলিসি ২০২৪’ প্রণয়নের মূল লক্ষ্য হল উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটানো এবং উদ্যোক্তাবান্ধব একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন রাষ্ট্র ২০০৯ সাল থেকে অনুসরণ করে আসছে, এই নীতিমালা তারই একটি বাস্তব ও কৌশলগত সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে যে বিপুল সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে একটি সুসংগঠিত ফাইন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম অপরিহার্য। এই নীতিমালা সেই প্রয়োজন পূরণে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। এটি কেবল অর্থায়নের পথ প্রশস্ত করছে না, বরং উদ্যোক্তা জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে সহায়তা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে — আইডিয়া থেকে প্রোটোটাইপ, প্রোডাক্ট থেকে মার্কেট, এবং অবশেষে স্কেলিং ও এক্সপোর্টে যাওয়ার ক্ষেত্রেও।

নীতিমালাটি প্রবর্তনের ফলে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ইনক্লুসিভনেস নিশ্চিত হবে। এতে করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। উদ্যোক্তারা শুধু ফান্ড নয়, বরং নলেজ-সাপোর্ট, মেন্টরশিপ এবং বাজারে প্রবেশাধিকারও পাবেন, যা তাদের সাফল্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষ করে যেসব তরুণ উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছেন — যেমন এগ্রিটেক, ফিনটেক, হেলথটেক বা ক্লাইমেট-স্মার্ট সল্যুশন — তাদের জন্য এই নীতিমালা হবে এক ধরনের সিস্টেমিক স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সূত্রপাত। এটি স্থানীয় উদ্ভাবনের বিশ্বায়ন ঘটাতে সহায়তা করবে এবং উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুত করবে।

এই নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন শুধু অর্থনীতির গতিশীলতা নয়, বরং সমাজে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ও নতুন কর্মসংস্থানের বিস্তার ঘটাবে — যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/3130 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 08:43:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh