• হোম > অর্থনীতি | বাংলাদেশ > মানবাধিকার ভিত্তিক গার্মেন্ট শিল্প গঠনে পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

মানবাধিকার ভিত্তিক গার্মেন্ট শিল্প গঠনে পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

  • শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫, ২০:৪০
  • ১৭৮

ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।

ই-বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিবেদন

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস ছিল বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের জন্য এক ভয়াবহ শিক্ষা। ১,১৩৮ প্রাণের বিনিময়ে সেদিন বিশ্ব জানল—সস্তা পোশাকের পেছনে কতটা ভয়াবহ বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে।
১২ বছর পেরিয়ে এসেও, নতুন গবেষণা বলছে—সরবরাহ চেইনের নিচের স্তরে এখনো শ্রমিক নির্যাতন, অপ্রতুল মজুরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত।

গবেষণার চিত্র: কিছু উন্নয়ন, অনেক সংকট
গবেষণা প্রতিষ্ঠান: নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন, GoodWeave International
সময়কাল: ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি

ইতিবাচক দিক:
৯০% পোশাক শ্রমিক বলেছেন, তাদের কারখানায় নিরাপত্তা কমিটি রয়েছে

কারখানার অবকাঠামোগত নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক উন্নত

নেতিবাচক দিক:
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক ন্যূনতম মজুরির নিচে বেতন পান

অনেক শ্রমিক দৈনিক ১০ ঘণ্টার বেশি, সপ্তাহে ৬ দিনের বেশি কাজ করছেন

অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকরাও আইনবিরুদ্ধভাবে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য

অর্ধেকের বেশি শ্রমিক কর্মস্থলে হুমকি ও অপব্যবহারের শিকার

সাব-কন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরি: অদৃশ্য নিপীড়নের জাল
বাংলাদেশে প্রায় ৭,০০০ গার্মেন্ট কারখানার অর্ধেকই সরাসরি রপ্তানিকারক নয়। এই সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানাগুলোতে অধিকাংশ শ্রমিক:

ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছেন না

অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন

কোনো শ্রমিক অধিকার বা নিরাপত্তা কমিটির অস্তিত্ব নেই

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো সরাসরি প্রধান কারখানাগুলোর দিকে নজর রাখলেও, এই সাব-কন্ট্রাক্টগুলো “নিরাপত্তার অন্ধকার অঞ্চল” হিসেবে রয়ে গেছে।

আইনি দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আইন অনুসারে, কোনো ইউরোপীয় কোম্পানির সরবরাহকারী মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে এবং যথাযথ ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ না করলে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ যদি এই শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে—

রপ্তানি অর্ডার হারানো

ব্র্যান্ড ইমেজ নষ্ট হওয়া

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া
—এমন ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

করণীয়: পথ খুঁজে নিতে হবে এখনই

১. সরবরাহ চেইনের পূর্ণ ম্যাপিং:
সব ব্র্যান্ডকে তাদের সম্পূর্ণ সরবরাহ চেইনের মানচিত্র তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো স্তরে কারা কাজ করছে তা জানা যায়।

২. বেতন কাঠামোতে প্রিমিয়াম সংযোজন:
বিদেশি ক্রেতারা যেন বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের বেশি অর্থ প্রদান করে, যাতে শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করা যায়।

৩. শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা:
শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিযোগিতায় চাপ:
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাজার হারাচ্ছে। এই অবস্থায় শ্রমিক সুরক্ষার জন্য বাড়তি ব্যয় অনেকে আত্মঘাতী মনে করতে পারেন। কিন্তু—

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আর বহন করতে রাজি নয়।

শুধু ব্র্যান্ডের লাভ বা সরকারের রপ্তানি আয়ের কথাই ভাবলে হবে না—এখন সময় এসেছে মানবিক উৎপাদন ব্যবস্থার।
রানা প্লাজার ভয়াবহ স্মৃতি যেন আর ফিরিয়ে না আনে—এই দায় শুধু রাষ্ট্র বা ব্র্যান্ড নয়, আমাদের সকলের।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/3124 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 February 2026, 07:10:23 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh