• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > লালমনিরহাট সফরে গিয়ে সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রম দেখবেন তারেক রহমান

লালমনিরহাট সফরে গিয়ে সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রম দেখবেন তারেক রহমান

  • রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৩
  • ২০

---

ইবি রিপোর্ট

লালমনিরহাটকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো, যৌতুক ও বাল্যবিবাহমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে আগামী ১৯ নভেম্বর জেলাটি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে আন্দোলনের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাহেবডাঙা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলো দূর করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে লালমনিরহাটকে এমন একটি জেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সারা দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

তিনি জানান, আন্দোলনটি জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি, শিক্ষক, ইমাম, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি এই নবযাত্রার উদ্বোধন করেছিলেন। এর চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী নিজে লালমনিরহাটে এসে কর্মসূচির বাস্তবায়ন দেখতে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এমন কর্মসূচি বা আন্দোলন নেই, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান দুজনই সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সেটি অন্যান্য জেলার সংসদ সদস্যদের দেখানো হবে, যাতে উদ্যোগটি সারা দেশে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

সভায় ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের কারণে তিস্তা ইস্যু দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে চীন, নেদারল্যান্ডস ও ভারত যৌথভাবে সেখানে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিক। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন আসাদুল হাবিব দুলু। তাঁর মতে, বড় ভবন কিংবা বিদ্যালয় নির্মাণ করলেই শিক্ষার লক্ষ্য পূরণ হয় না, যদি বিদ্যালয়ের মাঠেই মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। পোশাকের চেয়ে চরিত্রের সৌন্দর্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের নীতিবোধ ও আদর্শ ধারণ করে সমাজ পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান।

পাটগ্রামের সাহেবডাঙা স্টেডিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারসহ অন্যরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21538 ,   Print Date & Time: Sunday, 8 November 2026, 04:37:29 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh