![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীপাবলির আলোয় ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। উৎসব উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের হিন্দু নাগরিকদের দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদানের প্রশংসা করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, দীপাবলি ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা ও হতাশার অন্ধকারের ওপর আলোর জয়ের প্রতীক। এই উৎসব শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।
বার্তায় পাকিস্তানে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিও বিশেষ শুভকামনা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে হিন্দুদের অবদানকে মূল্যবান বলে অভিহিত করেন।
শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশটির একটি উল্লেখযোগ্য সম্পদ। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ দেশের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই সব সম্প্রদায়ের অবদান ও অধিকারকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও উঠে আসে। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের সংবিধান সংখ্যালঘু নাগরিকদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। ধর্ম, বিশ্বাস, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ পাকিস্তান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেহবাজ। তিনি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে বসবাস করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দীপাবলি উদযাপনকারী পাকিস্তানি হিন্দুদের উৎসবের আনন্দ উপভোগের শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তাটি শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সবার জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, সুখ ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অবদান, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষার বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।