![]()
ইবি স্পোর্টস ডেস্ক
২০১৮ সালের স্যান্ডপেপার গেট কেলেঙ্কারির পর অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করেছিলেন উসমান খাজা। কিন্তু স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার দায়িত্ব ছাড়ার পর টিম পেইনকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক করায় বিস্মিত হয়েছিলেন সাবেক এই ওপেনার। খাজার অভিযোগ, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়া এবং গায়ের রঙের কারণে তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টে স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির জেরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্মিথ ও সহঅধিনায়ক ওয়ার্নার দায়িত্ব হারান। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পান টিম পেইন। তবে ওই পদে নিজের সুযোগ দেখেছিলেন খাজা। তার মতে, জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার পাশাপাশি কুইন্সল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল তার।
খাজার বিশ্বাস, অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও নেতৃত্বের রেকর্ডের দিক থেকে তিনি এগিয়ে ছিলেন। তারপরও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে বিবেচনায় নেয়নি। তার ধারণা, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে বিরোধও তার নেতৃত্ব পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কোড স্পোর্টসের বরাতে খাজা বলেন, ‘অন্যদিকে, আমি অস্ট্রেলিয়া দলে নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলাম এবং ব্যাট হাতে নেতৃস্থানীয় ছিলাম। কয়েক বছর ধরে কুইন্সল্যান্ডেরও অধিনায়কত্ব করেছিলাম। আর আগের তিন বছরে অগণিতবার অস্ট্রেলিয়া এ দলের অধিনায়ক ছিলাম।’
নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে স্বাভাবিক পছন্দ মনে করলেও উপেক্ষিত হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
খাজা বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে স্বাভাবিক পছন্দ আমিই ছিলাম। কিন্তু আমাকে উপেক্ষা করল। আমি জানতাম কারণটা। একটি কারণ ছিল ওই সময় বেতন নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বোর্ডের সঙ্গে বিরোধে আমিই ছিলাম সামনের দিকে। আর বোর্ড অধিনায়ক নিয়োগ দিতো। সেই কারণে তারা সম্ভবত আমাকে দায়িত্ব দিতে চাইছিল না।’
শুধু অধিনায়কত্ব নয়, অন্তত সহঅধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্যতাও নিজের ছিল বলে মনে করেন খাজা। কিন্তু সেই পদে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল মার্শকে বেছে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে খাজার ভাষ্য, ‘তারা শ্যামলা বর্ণের কোনো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অধিনায়কের জন্য প্রস্তুত ছিল না, এমনকি ভারপ্রাপ্ত হিসেবেও না। ঠিক আছে, কিন্তু অন্তত আমার তো সহঅধিনায়কত্ব পাওয়া উচিত ছিল। তারা সেটা দিলো জশ হ্যাজলউড ও মিচেল মার্শকে। তুলনামূলকভাবে পরিণত খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে, যে কিনা কয়েক বছর ধরে নিজের রাজ্যের অধিনায়কত্ব করছিল, তাকে যেন লাথি মারা হলো।’