• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ১০ খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাবিনকোর

১০ খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাবিনকোর

  • রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:১১
  • ১২

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (সাবিনকো)। ১০টি খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সৌদি আরবের সম্মতির ওপর।

খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও ইলেকট্রনিকস। পরিকল্পনাটি দুই দেশের সরকারের নতুন ইক্যুইটি জোগানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরব এখনো নিজের অংশ দিতে সম্মতি জানায়নি।

বাংলাদেশ সরকার নতুন সভরেন ইক্যুইটি হিসেবে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫০:৫০ মালিকানা কাঠামো বজায় রাখতে ঢাকা সৌদি আরবের কাছেও সমপরিমাণ অর্থ চেয়েছে। গত ৭ অক্টোবরের চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদানকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।

দুই সরকার রাজি হলে সাবিনকোর পরিশোধিত মূলধন ৬০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ মিলিয়ন ডলার হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মারুফ উর রহমান মজুমদার টিবিএসকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি আগেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিতে বিনিয়োগ করেছে। এখন জ্বালানি, ওষুধ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মূলধন বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। দুই দেশের সরকার নতুন মূলধন জোগানের উদ্যোগ নিলে আমাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’

খাতভিত্তিক বরাদ্দ

সাবিনকোর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের কৌশলপত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এই অর্থ বড় আকারের ও ক্যাপটিভ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাবে। পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু অর্থায়নে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। এর আওতায় থাকবে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি), জিরো-লিকুইড-ডিসচার্জ স্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় ও কারখানা আধুনিকায়নের প্রকল্প।

ওষুধ ও অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) খাতে ৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্য শিল্পের জন্যও ৩০ মিলিয়ন ডলার ভাবা হয়েছে। এতে শস্য সংরক্ষণ, ডেইরি, পোল্ট্রি, মৎস্য ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত।

বাকি ৮০ মিলিয়ন ডলার কয়েকটি খাতে ভাগ হবে:

  • ইভি ও ব্যাটারি: ১৬ মিলিয়ন ডলার
  • ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর: ১৬ মিলিয়ন ডলার
  • চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো: ১৪ মিলিয়ন ডলার
  • চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: ১২ মিলিয়ন ডলার
  • পাট ও বহুমুখী পণ্য: ১২ মিলিয়ন ডলার
  • কাগজ, প্যাকেজিং ও রিসাইক্লিং: ১০ মিলিয়ন ডলার

এই বরাদ্দ প্রাথমিক হিসাব। বিনিয়োগ মূলধন যাচাই, ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত প্রকল্প বাছাই হবে।

শিল্পে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, আবার দেশ আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে কৌশলপত্রে সৌরবিদ্যুৎকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের বিনিয়োগ খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওষুধ খাতের অর্থায়ন দেশে এপিআই উৎপাদন বাড়াবে এবং সৌদি কোম্পানির পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারত্ব গড়তে সাহায্য করবে।

সৌদি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা

অর্থমন্ত্রীর চিঠিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ ও উৎপাদনমুখী শিল্পে সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। কৌশলপত্রে প্রস্তাবিত বিনিয়োগকে সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে সাবিনকোকে সৌদি কোম্পানির স্থানীয় অর্থায়ন ও যৌথ বিনিয়োগের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

যৌথ কাজের সম্ভাব্য ক্ষেত্রও চিহ্নিত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আকওয়া পাওয়ার, খাদ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যে আলমারাই এবং শিল্প উৎপাদনে সাবিক-এর নাম রয়েছে।

সাবিনকো আশা করছে, ২০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন মূলধন যুক্ত হলে বহুজাতিক ও আরব উন্নয়ন সংস্থা থেকে আরও ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণ মিলবে। উভয় সরকার ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন সাপেক্ষে যৌথ সভরেন গ্যারান্টি বা কাউন্টার-গ্যারান্টি কাঠামোর প্রস্তাবও কৌশলপত্রে আছে।

২০২৯ সালের প্রাক্কলন

কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাবিনকোর মোট সম্পদ ১ হাজার ১৪.২ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা বেড়ে ৮ হাজার ৫২০ কোটি টাকা হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সময়ে কর-পরবর্তী বার্ষিক নিট মুনাফা ৩৭.৮ কোটি থেকে ২৮২ কোটি টাকায় ওঠার আশা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়ানোর লক্ষ্যও ঠিক করা হয়েছে।

তবে এগুলো সম্ভাব্য প্রাক্কলন, নিশ্চিত ফলাফল নয়। হিসাবটি এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে যে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দুই কিস্তিতে নতুন ইক্যুইটি আসবে। তখন উভয় সরকারকে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে দিতে হবে।

কোম্পানিটি কর-পরবর্তী বার্ষিক নিট মুনাফার ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের প্রস্তাব করেছে। আর্থিক ফলাফল এবং পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তের ওপর এটি নির্ভর করবে। লভ্যাংশ দুই সরকারের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বার্ষিক লভ্যাংশ ৭০.৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যাতে প্রতিটি সরকার পাবে প্রায় ৩৫.২ কোটি টাকা।

পুরো সম্প্রসারণ নির্ভর করছে সৌদি আরবের সমপরিমাণ মূলধনে সম্মতি, অর্থ ছাড়ের সময় ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতার ওপর। বিনিয়োগের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাবিনকোকে আর্থিক শৃঙ্খলাও বজায় রাখতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21499 ,   Print Date & Time: Sunday, 8 November 2026, 10:30:27 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh