• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > সমবায় সমিতির দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সমবায় সমিতির দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:০৩
  • ১৯

---

ইবি রিপোর্ট

দুর্নীতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং পণ্য বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতায় দেশের সমবায় আন্দোলন প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমবায় খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা এবং বিদ্যমান আইন সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমবায়ের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির বিস্তারের কারণে অধিকাংশ সংগঠনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। অথচ দেশে সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই আন্দোলনকে আবার কার্যকর করতে হলে প্রথমেই সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, ১৯০৪ সালে সমবায় আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই আন্দোলন বিভিন্ন সময়ে অগ্রসর হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তার সঙ্গে সমবায় কার্যক্রমকে যুক্ত করে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সমবায় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর ফলে এ আন্দোলনের অগ্রগতির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

সমবায় খাতের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এই খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

অতীতের সফল সমবায় কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় সমবায় আন্দোলনের যে অবস্থান ছিল, তা এখন আর নেই। সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলন ক্রমেই দুর্বল হয়েছে। আগের মতো সমবায়ের প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগও দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমবায় খাতের বিকাশ ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমবায় সমিতিগুলোকে দেশের এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম সফলভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এর প্রভাবেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। তাই সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

সমবায়ের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সমস্যার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করলেও সেগুলো বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সমবায় অধিদপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে, যারা সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করবে। এ ধরনের উদ্যোগের ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সমবায়ের প্রধান দর্শন হচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেও ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল। সেখানে ভালো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কয়েকটি সফল সমবায় প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ও কর্মকাণ্ড দেখেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সমবায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এখনো আন্দোলনটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। তবে শুধু এই অবস্থায় ধরে রাখলে চলবে না; সমবায় কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য দেশের মানুষের কাছে সমবায় আন্দোলনের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।

সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন স্টলও পরিদর্শন করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21493 ,   Print Date & Time: Sunday, 8 November 2026, 10:52:29 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh