![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীপাবলি উদ্যাপনে ব্যাপক আতশবাজি পোড়ানোর পর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। উৎসবের পরদিন আজ রোববার সকালেই শহরের একাধিক এলাকার বায়ুমান নেমে গেছে বিপজ্জনক পর্যায়ে। কোনো কোনো স্থানে বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) ৪৫০ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আগামী দুই দিনও দূষণের এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরি, পাঞ্জাবিবাগ ও আর কে পুরম এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর বাতাসের মানও খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
রোববার সকালে জাহাঙ্গীরপুরি, পাঞ্জাবিবাগ ও আর কে পুরমে একিউআইয়ের মাত্রা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরপুরিতে সূচকটি বেড়ে ৪৫০-এ পৌঁছায়। দীপাবলি উপলক্ষে ব্যাপক আতশবাজি পোড়ানোর পর বাতাসে দূষণের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, একিউআই ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে সন্তোষজনক এবং ১০১ থেকে ২০০ হলে মাঝারি হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত বায়ুর মান খারাপ, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে খুবই খারাপ এবং ৪০১ থেকে ৫০০ হলে অত্যন্ত খারাপ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
এই হিসাবে দিল্লির কয়েকটি এলাকার বায়ুমান এখন দূষণের সর্বোচ্চ শ্রেণিতে রয়েছে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরপুরিতে একিউআই ৪৫০ হওয়ায় সেখানকার বাতাসের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আগামী দুই দিন দিল্লির বায়ুমানের উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে সতর্ক করেছে এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম দিল্লি। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় শহরের দূষণ পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে।
দিল্লিতে আতশবাজি পোড়ানো নিয়ে আগেই বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীতে কেবল সবুজ আতশবাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ৭ ও ৮ নভেম্বর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আতশবাজি পোড়ানো যাবে বলে জানানো হয়। তবে মধ্যরাতে তা বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল।
আদালতের নির্দেশনা অনুসারে, আগামীকাল ৯ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে সব ধরনের আতশবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
দীপাবলি ঘিরে আতশবাজির ব্যবহার এবং পরবর্তী সময়ে বায়ুদূষণের এই পরিস্থিতি আবারও রাজধানীর পরিবেশগত সংকটকে সামনে এনেছে। উৎসবের পরদিনই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের মান আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।