![]()
ইবি রিপোর্ট
সমুদ্রের নীল জলরাশি, প্রবাল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে সেন্ট মার্টিন। নতুন পর্যটন মৌসুমে আবারও খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। ঘুরে দেখার পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগ থাকায় অনেকেই পরিকল্পনা করছেন এক রাতের ভ্রমণের। তবে ঢাকা থেকে গিয়ে এক রাত কাটিয়ে ফিরে আসতে জনপ্রতি কত টাকা প্রয়োজন হবে, তা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। চলতি মৌসুমে এ ভ্রমণে সর্বনিম্ন ৯ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হতে পারে।
পর্যটকেরা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এক রাতের ভ্রমণে সম্ভাব্য খরচ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া-আসার নন-এসি বাসভাড়া জনপ্রতি ২ হাজার ৪০০ টাকা। কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়া-আসার জাহাজের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ হাজার ৬০০ টাকা। দ্বীপে ইকোনমি হোটেল বা রিসোর্টে এক রাত থাকার জন্য আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছয় বেলা খাবারের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ফি ১০০ টাকা এবং স্থানীয় যাতায়াতে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে জনপ্রতি মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৯ হাজার ৩০০ টাকা। তবে কেনাকাটা ও ব্যক্তিগত খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। আবাসন, খাবার ও যাতায়াতের পছন্দ অনুযায়ী বাজেট আরও বাড়তে পারে।
ভ্রমণের আগে জেনে রাখুন ৯টি বিষয়
১. আগেই জাহাজের টিকিট সংগ্রহ করুন
ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত জাহাজের টিকিট নিশ্চিত করা। আগে থেকে টিকিট কিনে রাখলে শেষ মুহূর্তে আসন না পাওয়ার আশঙ্কা কমবে।
২. কোন জাহাজগুলো চলাচল করছে
চলতি মৌসুমে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন নৌপথে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ চলাচল শুরু করেছে। আরও কয়েকটি জাহাজ অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। যাত্রার আগে অনুমোদিত জাহাজের তালিকা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
৩. যেভাবে টিকিট কিনবেন
অনুমোদিত জাহাজগুলোর ওয়েবসাইট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা নম্বর কিংবা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। যাওয়া ও ফেরার টিকিট আলাদাভাবে কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে তারিখ নিশ্চিত থাকলে দুই পথের টিকিট একসঙ্গে কিনে রাখা সুবিধাজনক।
৪. জাহাজের টিকিটের দাম
আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী জাহাজের ভাড়া নির্ধারিত হয়। সাধারণ সিট, বিজনেস চেয়ার, মোজারাট চেয়ার, বেড ও কেবিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে। যাওয়া-আসার টিকিটের দাম ৩ হাজার ৬০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ফি ও ট্রাভেল পাস
প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য ট্রাভেল পাসও বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ প্রক্রিয়া তদারক করে। তবে পর্যটকদের আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। জাহাজের টিকিট বুকিংয়ের পর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করবে।
৬. আগেভাগে আবাসন বুকিং দিন
সেন্ট মার্টিনে রাত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই হোটেল, রিসোর্ট বা কটেজ বুকিং করা ভালো। দ্বীপে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। সেখানে পৌঁছে আবাসন খুঁজতে গেলে সময় নষ্ট হতে পারে।
৭. রিসোর্টের ভাড়া কেমন
আবাসনের মান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভাড়ায় পার্থক্য রয়েছে। প্রিমিয়াম হোটেল ও রিসোর্টে এক রাতের ভাড়া ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা, স্ট্যান্ডার্ডে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা এবং ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্টে ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
ছুটির দিন ও পর্যটকের চাপ বাড়লে ভাড়া বেশি হতে পারে। আবার কিছু রিসোর্টে বিশেষ ছাড়ও পাওয়া যায়। বুকিংয়ের আগে ওয়েবসাইট বা বুকিং প্ল্যাটফর্মে ছবি, রেটিং ও ভাড়া দেখে সরাসরি যোগাযোগ করে শর্ত নিশ্চিত করা উচিত।
৮. জাহাজ ছাড়ার সময়
দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে। সেখানকার নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে সকালে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছেড়ে যায়। বিকেলে দ্বীপ থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরে আসে। যাত্রার আগে টিকিটে দেওয়া নির্দেশনা ও জাহাজ ছাড়ার সময় যাচাই করে নিতে হবে।
৯. দ্বীপে ভ্রমণের নিয়মকানুন
ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পলিথিন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা, বারবিকিউ পার্টি আয়োজন এবং মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। তাই ভ্রমণের সময় এসব বিধিনিষেধ মেনে চলা প্রয়োজন।