ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরের প্রধান চত্বরে সামরিক রাইফেল নিয়ে এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন। ২৪ বছর বয়সী ওই যুবকের হামলায় পর্যটক ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হামলার পর ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) পোলিশ কর্মকর্তারা হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হতে পারেন বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর ওপর উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রভাব থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে। সামরিক পোশাক পরা ওই যুবক একটি কালো গাড়ি থেকে নেমে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় ঘেরা ক্রাকোভের প্রধান চত্বরে অবস্থানরত মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। এ সময় তার হাতে ছিল এআর-১৫ সামরিক রাইফেল। পর্যটক ও সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে তিনি পরপর গুলি ছোড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পুলিশের সাইরেন শুনে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন দোকান এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেন। হামলার খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
পরে পুলিশ সদস্যরা বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি জানান, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত যুবকের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। তার ব্যবহৃত গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বাড়িতেও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র থাকতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ কারণে বাড়িটির আশপাশে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সন্ত্রাস দমন সংস্থার সদস্যরা সেখানে অভিযান শুরু করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে হামলার পেছনের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা। বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনজনের সঙ্গে হামলাকারীর সম্পর্ক এবং তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতারা। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসসহ বিশ্বনেতারা প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন।
পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। হামলার ঘটনায় দেশটিতে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।