![]()
ইবি স্পোর্টস ডেস্ক
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলার পর নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের কথা জানালেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস শুধু রেকর্ডই গড়েনি, দলকেও এনে দিয়েছে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড। এমন অর্জনে আনন্দিত এই ব্যাটসম্যান জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত পূরণ হয়েছে তাঁর স্বপ্ন।
রেকর্ড গড়ার পর হৃদয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে আগ্রহী ছিলেন অনেকেই। তবে শুক্রবার প্রায় পুরো দিন ব্যাটিং করায় ক্লান্ত থাকায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। রাতে বিশ্রাম নিয়ে শনিবার আবার মাঠে ফেরেন ফিল্ডিং করতে। এর আগে সম্প্রচারমাধ্যমের ক্যামেরায় নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৪২ রান করে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন হৃদয়। তাঁর এই ইনিংস এখন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
নিজের অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। হয়তো আমার প্রত্যাশার চেয়েও একটু আগে পূরণ হয়েছে। সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
শুক্রবার বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। মাত্র ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। পরে একপর্যায়ে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে ১৮৪ রানে। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন হৃদয়। শেষ দুই ব্যাটসম্যানের সঙ্গে যোগ করেন আরও ২০২ রান। তাঁর ব্যাটিংয়েই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা কাটিয়ে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের ২৪২ রানের বিপরীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল মুশফিকুর রহিমের ৩৪ রান।
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘আপনি যখন টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন, তখন দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে হবে। যখনই কোনো সুযোগ আসবে, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।’
তবে রেকর্ড গড়া ইনিংসের পুরো কৃতিত্ব নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি তিনি। শেষ দিকে তাইজুল ও তাসকিনের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন। হৃদয়ের ভাষায়, ‘তাইজুল ও তাসকিন খুব ভালো খেলেছে। ওরা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছে, তাতে আমি অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।’
সিলেটে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলছেন হৃদয়। সামনে দীর্ঘ পথ থাকলেও আপাতত ব্যক্তিগত কোনো মাইলফলক নিয়ে ভাবছেন না তিনি। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে হৃদয় বলেন, ‘আপাতত আমার কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু দলের যা প্রয়োজন, সেটাই করতে চাই। আগেও বলেছি, যখনই সুযোগ পাই, দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করি। ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, দলের যা প্রয়োজন হবে, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’