• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > গ্রাম নিরাপদ হলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে: তারেক রহমান

গ্রাম নিরাপদ হলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে: তারেক রহমান

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:২৬
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নকে নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলে পুরো বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় এলাকায় অপরাধের ঘটনা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন তিনি। সমাবেশস্থলে পৌঁছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সঙ্গে নিয়ে মূল মঞ্চে ওঠেন।

মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। এ ছাড়া প্রত্যেক সদস্যকে মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেবে সরকার। ঘোষিত সুবিধাগুলো শনিবার থেকেই কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। আগে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য অবসরে ৫০ হাজার টাকা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এই অর্থ ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

থানায় যাতায়াতের জন্য সাপ্তাহিক ভাতাও বাড়ানোর ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। বর্তমানে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্তে তা ৫০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এই ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশের পরিচিতি ও মর্যাদা বাড়ানোর অংশ হিসেবে পদবিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যারা মহল্লাদার ও দফাদার নামে পরিচিত ছিলেন, এখন থেকে তারা যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত হবেন। সরকারের লক্ষ্য শুধু পদবি বদলানো নয়, বরং তাদের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানো।

নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস নির্ধারণের কথাও জানান তিনি।

গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি দিতে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক তাদের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। পরবর্তী সময়ে গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাইকেল দেওয়ার সময়সীমা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে পাঁচ বছর পরপর তাদের সাইকেল দেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম দিয়ে সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। এ জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণেও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও খালের দুই পাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে গাছ লাগানোর কাজে উৎসাহিত হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এতে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় সমাবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের আট বিভাগ থেকে নির্বাচিত আটজন সেরা গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21393 ,   Print Date & Time: Saturday, 7 November 2026, 11:45:13 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh