• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে | রাজনীতি > শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণার অপেক্ষায় বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণার অপেক্ষায় বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৫
  • ২৫

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ঘিরে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে দলটির নেতারা ইতিমধ্যে ভারতে আসতে শুরু করেছেন। তাদের বড় একটি অংশ কলকাতায় অবস্থান নিয়ে ফিরছেন দলীয় নেতাদের কাছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যাশায় সেখানে অপেক্ষা করছেন তারা। অন্যদিকে, বিদেশে থাকা আরও অনেক নেতাকর্মী দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কলকাতায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দুই সাংগঠনিক সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব বাংলাদেশ।

বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিরাপত্তার জন্য ভারত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে হাসিনা বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির কাছে তিনি সহায়তা চাননি। গ্রেপ্তার কিংবা মৃত্যুদণ্ড, যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনার বিষয়টি জানা গেছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি অথবা মাসের শেষ দিকে আয়োজনটি হতে পারে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। লন্ডন থেকে ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই দেশে ফেরার তারিখ ও পরিকল্পনা জানাতে পারেন। দলটির নেতাকর্মীরা এখন সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের এক নেতা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রস্তুতি শেষ হলে আগামী সপ্তাহে বিস্তারিত জানানো হবে।

কলকাতায় অবস্থান করছেন যেসব জ্যেষ্ঠ নেতা

পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে সম্প্রতি কলকাতায় পৌঁছেছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা সেখানে অবস্থানরত জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক সভাতেও অংশ নিচ্ছেন তারা।

এসব বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ কে এম মোজাম্মেল হক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া রয়েছেন। আরও অংশ নিচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও এসব বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া মির্জা আজম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সুজিত রায় নন্দী অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হেলাল উদ্দিনও সেখানে অবস্থান করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিলও রয়েছেন। তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং নিজাম উদ্দিন হাজারী। এসব আলোচনায় দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে কথা হচ্ছে।

সম্প্রতি কলকাতায় পৌঁছেছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান। সেখানে গেছেন সাবেক মন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও কলকাতায় অবস্থান করছেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদারও সম্প্রতি সেখানে পৌঁছেছেন।

আবদুর রহমান বলেন, ‘সবাই সেখানে অবস্থান করছেন। নেত্রীর দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশে থাকা কয়েক হাজার নেতাকর্মী একসঙ্গে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। সবাই শেখ হাসিনার ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে চায় এবং তার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশে ফিরবেন। সবাই এক জায়গায় আসছেন এবং এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

সহযোগী সংগঠনের নেতারাও কলকাতায়

শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে সহযোগী সংগঠনের নেতারাও কলকাতায় অবস্থান করছেন। যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল সেখানে রয়েছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানও অংশ নিচ্ছেন।

এসব বৈঠকে দলীয় কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও কলকাতায় অবস্থান করছেন।

বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন আরও নেতারা

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম লন্ডন ও কলকাতায় যাতায়াত করছেন। সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতও সেখানে রয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন অবস্থান করছেন লন্ডনে। হাসান মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন বেলজিয়ামে এবং নসরুল হামিদ বিপু থাইল্যান্ডে।

দলীয় সূত্রের দাবি, এসব নেতারাও যেকোনো সময় কলকাতায় ফিরতে পারেন। এর আগে নেপালে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশটি ছেড়েছেন। তাদের অনেকে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন। তারাও কলকাতা হয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

পাসপোর্ট না দেওয়ার ঘোষণা, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকার তাকে পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস দেবে না। ফলে এসব নথি ছাড়া তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা দেশে ফেরার বিকল্প ব্যবস্থা থাকার কথা জানিয়েছেন। যদিও সেই ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি তারা।

লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সরকার পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস না দিলেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন। তার দেশে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হলে সরকার অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দেশে থাকা নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার নির্দেশ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরাও কলকাতায় অবস্থান করছেন। দলটির কয়েক শ নেতাকর্মী ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তারা প্রকাশ্যে না এসে গোপনে সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করছেন।

নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখছেন তারা। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশে থাকা নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন সবাইকে একযোগে রাজপথে নামতে বলা হয়েছে। তবে কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করবেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনলাইনে সক্রিয় রয়েছেন। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সদস্যরাও অনলাইনে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পুলিশের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাতেও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21375 ,   Print Date & Time: Saturday, 7 November 2026, 11:45:13 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh