• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > মিয়ানমার-চীন সড়কপথ চালু হলে বাড়বে বাংলাদেশের বাণিজ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

মিয়ানমার-চীন সড়কপথ চালু হলে বাড়বে বাংলাদেশের বাণিজ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৪
  • ১৯

---

ইবি রিপোর্ট

মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। এ পথে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পণ্যবাহী ট্রাক চীনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত এই যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে শুধু চীনের সঙ্গে নয়, মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

শুক্রবার রাতে সিলেটে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন (বিএমসি) সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ট্রাক মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীনে পৌঁছাতে পারবে। এতে তিন দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি। এর অন্যতম কারণ, দেশের রপ্তানিমুখী অনেক শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। পরে এসব কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধনের মাধ্যমে চূড়ান্ত পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের বাণিজ্য পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনাই এখন বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। তৈরি পোশাকের বাইরে জাহাজ নির্মাণ, নন-লেদার পণ্য, পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য খাতকে আরও রপ্তানিমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে।’

পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে পুনর্নির্ধারণের কাজ করতে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড দ্রুত তাদের কার্যক্রম শেষ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে নতুন হারে মজুরি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

অন্যদিকে, পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি ও আমদানি—সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীলতা পূর্বশর্ত। ব্যবসা-বাণিজ্য কখনো অনিশ্চিত পরিবেশ পছন্দ করে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা উচিত।’

শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে কারও অসৎ উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ‘কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিস্বার্থে অস্থিরতা সৃষ্টিতে ইন্ধন দিয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।’

এ সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্প ও ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21373 ,   Print Date & Time: Saturday, 7 November 2026, 11:55:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh