• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯
  • ৩৩

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ইতিহাসে ৭ নভেম্বরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। তিনি ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, এ কারণেই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর। তিনি দিনটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। ম্যাগনা কার্টা ইংল্যান্ডের ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক সনদ, যা ১২১৫ সালের ১৫ জুন রাজা জন স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এর অর্থ মহাসনদ। আধুনিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের বিকাশে এই সনদকে অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় এক। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই গর্বিতভাবে বাংলাদেশি। এই অভিন্ন পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। তাঁর বক্তব্যে, এই বিপ্লবের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন।

দেশের ঐক্য সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের জাতীয়তাবোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যে দেশের তরুণেরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের মানুষের ঐক্য শক্তিশালী হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপস না করার পরিচয় দিয়েছে। এসব ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে—সবার আগে বাংলাদেশ।

ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ঐক্য ধরে রাখতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা অন্তরে ধারণ করতে হবে।

বর্তমান সরকার সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21330 ,   Print Date & Time: Saturday, 7 November 2026, 11:45:11 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh