![]()
ইবি স্পোর্টস ডেস্ক
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ব্যাটিংয়ে স্বস্তি পেল না বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৮ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দিনের শেষভাগে মুমিনুল? না, মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে দল। তবে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। তাওহিদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটি থেকে এসেছে ৩৭ রান। আগামীকাল এই জুটি নিয়েই আবার ব্যাটিং শুরু করবে বাংলাদেশ।
এর আগে ৩৫৬ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের ৪.২ ওভারে ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫ রান করা নাঈম হাসান। সাদমান ইসলামের চোটের কারণে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামতে হয়েছিল এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও আগে কখনো ওপেন করেননি তিনি। আগের টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেয়েছিলেন নাঈম।
এরপর ইনিংসের নবম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গ্রিভসের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পয়েন্টে দুর্দান্তভাবে বলটি তালুবন্দি করেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ।
তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় ২৯ রানের জুটি গড়েন। তবে ২২.৪ ওভারে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। তখন দলের সংগ্রহ ৫১ রানে তিন উইকেট। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন হৃদয়।
দ্বিতীয় সেশনের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৭ ওভারে ২ উইকেটে ৩৬ রান। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের বোলিংয়ে বেশ চাপে ছিল স্বাগতিকরা। পরবর্তী সময়ে নাজমুলের বিদায়ে সেই চাপ আরও বাড়ে। তবে দিনের শেষ দিকে মুশফিক ও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে। শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসের ৩৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা ভুগিয়েছে। পরে মেহেদী হাসান মিরাজ এই জুটি ভাঙেন। নিজের ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান কোনো উইকেট পাননি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন ২ উইকেট। তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পাওয়ার পরও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি তাসকিন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন আমির জাঙ্গু। এ ছাড়া ফিফটি পেয়েছেন কেভিন উইকহ্যাম ও জাস্টিন গ্রিভস।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট হাতে মুশফিক ও হৃদয়ের জুটি ধরে রাখাই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।