![]()
ইবি রিপোর্ট
ঋণ পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে পড়া দেশের ভোগ্যপণ্য খাতের বড় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রুপটির পাঁচটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের জন্য সিন্ডিকেটেড চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইনের একটি বিধান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সিটি ব্যাংক পিএলসির নেতৃত্বে এ ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বুধবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার প্রয়োগ স্থগিত থাকবে। ওই ধারায় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ঋণ সুবিধার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড।
৪৭ প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকা
দেশি-বিদেশি প্রায় ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে সিটি গ্রুপ। এসব ঋণের স্থিতি এরই মধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ঋণ পরিশোধে অনিয়মের কারণে কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করেছিল।
এর আগে গত ৬ মে সিটি গ্রুপের আর্থিক চাপ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিসহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বণিক বার্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে আসা গ্রুপটির কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা সংকটের কারণে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে লিখিতভাবে নীতিসহায়তা চেয়েছিল গ্রুপটি।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে গ্রুপটির আর্থিক পরিস্থিতি ও ঋণ আদায় প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এর পরদিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ সুবিধায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত
নতুন ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ঋণের বিপরীতে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক পিএলসি কিংবা সিন্ডিকেটভুক্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না।
এ ছাড়া সিটি গ্রুপকে এমন সম্পত্তি নিবন্ধিত বন্ধক বা জামানত হিসেবে দিতে হবে, যা অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে আগে থেকে দায়বদ্ধ নয়।
সিন্ডিকেট ঋণের অর্থে কেনা কাঁচামাল বা পণ্য বিক্রির অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে নির্ধারিত অনুপাতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট ঋণের অর্থ দিয়ে আমদানি করা কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর ‘সিকিউরিটি এজেন্টের’ প্রতিনিধি হিসেবে কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করবে।