![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসব খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কিংবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে কাজ করতে চীনের রেলওয়ে নির্মাণ করপোরেশনকে (সিআরসিসি) এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে মীর শাহে আলম বলেন, সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সড়ক ও সেতু নির্মাণসহ কালভার্ট নির্মাণের মতো প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) অথবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তিনি জানান, উন্নয়নমূলক এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। গ্রামকে শহরে রূপান্তর এবং দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যেও সিআরসিসির আধুনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির চলমান কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিআরসিসি।
প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে কক্সবাজার রেল সংযোগ, ঢাকা-আশুলিয়া উড়ালসড়ক এবং অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।
দাই হেগেন আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ এবং নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের মতো খাতে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী সিআরসিসি। এসব খাতে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে জানান তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং সিআরসিসির প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা হয়।