• হোম > খেলা | ফুটবল > ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে সাফের মিশনে নামছে বাংলাদেশ

২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে সাফের মিশনে নামছে বাংলাদেশ

  • বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:০৮
  • ২২

---

 

ইবি স্পোর্টস রিপোর্ট

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে সর্বশেষ এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-সবুজের দল। এবার ঘরের মাঠে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এসেছে। তবে স্বপ্নের পথে প্রথম পরীক্ষায় প্রতিপক্ষ ভুটান। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে তাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে স্বাগতিকরা। যদিও প্রথম ম্যাচে দলের অন্যতম তারকা হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। কঠোর পরিশ্রম, নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস এবং দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবার শিরোপা জেতা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে কেবল প্রত্যাশা বা আত্মবিশ্বাস নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন কোচ।

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। আট বছর বিরতির পর আবারও বাংলাদেশে ফিরেছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই আসর। স্বাগতিক দল হিসেবে এবার বাংলাদেশের ওপর প্রত্যাশাও বেশি। তবে ডুলির মতে, নিজেদের আর আন্ডারডগ ভাবার সময় নেই।

তিনি বলেন, ‘গত ২৩ বছরে হয়তো চাপটা এখনকার চেয়েও বেশি ছিল। আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং বিশ্বাস করি ভালো করতে পারব। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা খেলতে পারি, লড়াই করতে পারি এবং শিরোপা জিততে পারি। এই টুর্নামেন্টে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।’

কোচ আরও বলেন, ‘আমরা আর নিজেদের আন্ডারডগ বলতে পারি না। এখন আমাদের প্রমাণ করতে হবে, আমরা এই পর্যায়ের দল এবং শিরোপা জিততে চাই। সমর্থকদের জন্য, দলের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য আমরা ট্রফি জিততে চাই। তবে শুধু আত্মবিশ্বাস থাকলেই হবে না, মাঠে কাজ করে দেখাতে হবে।’

ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন অধিনায়ক তপু বর্মনের লক্ষ্য, প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে সমর্থকদের ভালো ফুটবল উপহার দেওয়া। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতার শুরুটা ভালো হওয়া দলের জন্য জরুরি।

তপু বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জেতার জন্য মাঠে নামব। পুরো বাংলাদেশকে ভালো ফুটবল উপহার দিতে চাই, যাতে মানুষ আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে দেখতে পারে। ২৩ বছর পর আমাদের সামনে ভালো একটি সুযোগ এসেছে। আমরা সেটি হাতছাড়া করতে চাই না। যারা ফুটবল ভালোবাসেন, তাদের সবাইকে আমাদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই। আমরা সমর্থনের প্রতিদান দিতে চাই ট্রফি জিতে।’

প্রথম ম্যাচে হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি ঘাটতি হবে বলে স্বীকার করেছেন অধিনায়ক তপু। ইংলিশ লিগে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই মিডফিল্ডারের নেতৃত্ব ও সতীর্থদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দলের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন তিনি।

তপু বলেন, ‘হামজাকে আমরা অনেক মিস করব। তার মতো নেতৃত্ব আমাদের দলের জন্য খুবই প্রয়োজন। যেভাবে তিনি সতীর্থদের গাইড করেন, সেটি বিশেষ কিছু। আমরা আগে থেকেই জানি, সূচির কারণে প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। আমাদের দায়িত্ব হলো ভুটানের বিপক্ষে জিতে তার জন্য পথটা সহজ করে দেওয়া। আমরা চাই, তিনি যখন দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, তখন যেন উৎফুল্ল মনোবল নিয়ে আসতে পারেন। তাকে জয় দিয়ে স্বাগত জানাতে চাই।’

ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রত্যাশা ও চাপ নিয়েও কথা বলেছেন তপু। তাঁর মতে, স্বাগতিক দলের ওপর বাড়তি চাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই চাপ ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব।

অন্য দলগুলোর কোচদের চোখে বাংলাদেশ এবারের প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেবারিট। স্বাগতিক হিসেবে প্রত্যাশার চাপ বেশি থাকবে বলে স্বীকার করেছেন ডুলিও। তবে এই চাপকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করতে চান তিনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন কোচ। এশিয়ান কাপের ম্যাচগুলোতে দল প্রত্যাশিত আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারেনি। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে খেলোয়াড়েরা কিছুটা গুটিয়ে পড়েছিলেন। পাস দেওয়া ও বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সহজ ভুল হয়েছে। প্রস্তুতির সময় এসব সমস্যা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন ডুলি।

চোটের কারণে প্রস্তুতির সময় তপু বর্মনকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোচ। তবে বর্তমানে তিনি অনুশীলন করছেন এবং ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ডুলি।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিপক্ষ দল না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন ফুটবলারের চোট থাকায় নিজেদের মধ্যেও ম্যাচ আয়োজন করা যায়নি। নতুন করে খেলোয়াড়দের চোটে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন কোচ।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন পূরণে প্রথম বাধা পেরোনোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিক দল।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21180 ,   Print Date & Time: Wednesday, 4 November 2026, 12:23:00 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh