![]()
ইবি বিনোদন রিপোর্ট
মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জামিন আবেদনও নাকচ করেছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমণির বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি তাঁকে ডাকেন। এরপর একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে পরীমণি হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন। গ্লাসটি নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে তিনি দাবি করেন।
মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের এপ্রিলে পরীমণি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে সিজেএম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি।
পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের ঘটনায় জুনায়েদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। একই সঙ্গে পরীমণির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বুধবার মামলার শুনানিতে পরীমণি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান।
নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা ২০২২ সালের এই মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর আদালতের এ আদেশ এলো। মামলার অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগোবে।