![]()
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। দুপুর ১২টার পর সড়কে যানবাহন চলাচল বাড়তে শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও পরে আবার চালু করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান। পরে আন্দোলনকারীরা আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষের মধ্যেই কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সংঘর্ষের প্রভাবে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীমুখী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তবে বেলা ১২টার পর পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। সড়কে ধীরে ধীরে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ে। একপর্যায়ে ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বেলা ১২ পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্টেশনটি আবার চালু করা হয়।
এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি জলকামান ও দুটি সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সংঘর্ষের পর সড়কে যান চলাচল ও মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।