• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ | রাজধানী > কালশীতে সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মারধরের অভিযোগ

কালশীতে সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মারধরের অভিযোগ

  • মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:১৯
  • ২৮

মিরপুরের কালশীতে একটি সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মারধর করেন কয়েকজন।

 

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ওই সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সাইমন কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সময় কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে এক নারী ভিডিও ধারণ করেন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিতে গিয়ে তাঁদের মাঝখানে পড়ে যান।

ওই নারী বলেন, বিক্ষোভকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। তখন আশপাশে অন্য কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, কয়েকজন মিলে পুলিশ সদস্যকে মারধর করলেও পরে তাঁদের মধ্য থেকেই কিছু ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে মিরপুর-১১ মেট্রোস্টেশনের দিকে পাঠিয়ে দেন।

ঘটনাস্থলের পাশের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা দেখেছেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তাঁরা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা আর দেখতে পারেননি তাঁরা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা তখনো কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কালশী এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ছিল। সড়কের উভয় পাশে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। গত শনি ও রোববার তাঁরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আবারও শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21039 ,   Print Date & Time: Tuesday, 3 November 2026, 07:12:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh