• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের খাদ্য মজুতসহ নানা প্রস্তুতি

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের খাদ্য মজুতসহ নানা প্রস্তুতি

  • মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৬
  • ২২

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

 

ইবি রিপোর্ট

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আগামী বছর সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর প্রভাব বিবেচনায় রেখে খাদ্য মজুত বাড়ানোসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের তিন থেকে সাত দিনের খাবার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। এতে বোঝা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো জনগণকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। সম্ভাব্য সংকট বিবেচনায় শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, এর বাইরের বিভিন্ন ঝুঁকিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আগামী বছর সুপার এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে খাদ্য মজুত বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) প্রসঙ্গেও নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আইজিপির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেননি।

উপদেষ্টা বলেন, আইজিপির আগের বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা হয়েছিল। তিনি মূলত বলেছিলেন, আইজিপি আগের বক্তব্যে অটল থাকেননি; পরে সেটি থেকে সরে এসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তার প্রতি একটু আনকাইন্ড যেন না হই। মানে, তিনি তো এই জায়গায় স্টিক করেননি।’ পরে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে আইজিপির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর যদি মনে হয়, তাহলে তিনি এসে ব্যবস্থা নেবেন।

তবে ওই বক্তব্যের অর্থ প্রধানমন্ত্রী এসে আইজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন—এমন নয় বলে ব্যাখ্যা করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর দাবি, বক্তব্যের একটি অংশকে ভুলভাবে শিরোনাম করা হয়েছে এবং কেউ কেউ তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন।

আইজিপির বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য না আসাই ভালো। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আইজিপি বিষয়টি খুবই সাধারণভাবে বলেছেন এবং সহজ-সরলভাবে কথাটি প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনিও নিজের আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সন্ধ্যার মধ্যেই আমরা দেখেছি, তিনি এটা ডিসওন করে বক্তব্য দিয়েছেন।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21035 ,   Print Date & Time: Tuesday, 3 November 2026, 07:11:59 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh