![]()
ইবি রিপোর্ট
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত বর্তমান সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা এবং পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে একই সূত্রে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, শ্রমিকদের অসন্তোষের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে দলটির হাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখে বলে আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু তাদের কাছে যেহেতু প্রচুর অর্থ রয়েছে, তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে কোনো না কোনো উপায়ে নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তবে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সেই নাশকতার চেষ্টাকে মিলিয়ে দেখা বা সংযোগ করা ঠিক হবে না।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে নাশকতার চেষ্টা করলেও সেটিকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম হওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই অসন্তোষের সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন না।
তাঁর ভাষ্য, দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক পরিস্থিতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ দুই খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার বাজেট পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
তবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রতি বছর এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের ক্রমেই কমে আসছে বলে সতর্ক করেন তিনি।