• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যোগ করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যোগ করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

  • মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬
  • ১৮

ছবি: সংগৃহীত

 

ইবি রিপোর্ট

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিলও বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারীরা যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করবে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন দেশের তরুণেরা। সম্প্রতি আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী তাঁদের উদ্ভাবনী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়েও প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের জন্য গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। তাই অর্থের অভাবে তরুণদের কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এভাবে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ সরকার প্রণোদনাসহ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ চলছে। উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানোর আগেই তিনি নিজের বাসায় সৌর প্যানেল বসিয়েছেন। সেখান থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলার ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় ব্যয় না করে বর্তমান চাহিদা পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার। বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারাই মূল চালিকাশক্তি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এর সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব হলেও এর অপচয় রোধ করা সবার কর্তব্য।

এ জন্য দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন না থাকলে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/21015 ,   Print Date & Time: Tuesday, 3 November 2026, 06:25:46 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh